দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে কোনো সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মঙ্গলবার তিনি এ কথা জানান। এমন এক সময়ে তাঁর এ বক্তব্য এল, যখন রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিয়েভের ওপর চাপ বাড়ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার আকস্মিকভাবে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পর সোমবার রাতে প্রথমবারের মতো ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার খবর পাওয়া যায়নি। তবে রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে দেশটির পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থায় হামলা চালিয়েছে। এর আগে রয়টার্সসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ না করলে ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও অস্ত্র বিক্রি বন্ধের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
জেলেনস্কি বলেন, ট্রাম্পের ঘোষণার পর থেকে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা চালায়নি। তবে সোমবার রাতে কিয়েভে ভয়াবহ হামলার আগে রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়ে মিত্রদের কাছ থেকে নিয়মিত আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি। ওই হামলায় বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করে। এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। সোমবার রাতে কিয়েভে কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পরই বিমান হামলার সতর্কসংকেত বেজে ওঠে।
তবে আগাম সতর্কতা না পাওয়ার ঘটনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কোনো সরাসরি যোগসূত্র আছে কি না, সে বিষয়ে জেলেনস্কি মন্তব্য করেননি।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করেছেন। ওয়ারশ নিরাপত্তা ফোরামে তিনি বলেন, ইউক্রেন এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছে। তাঁর মতে, রাশিয়ার ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন ও এর বৈশিষ্ট্যের কারণে সতর্কবার্তা দিতে দেরি হয়ে থাকতে পারে।
সামরিক শক্তি, অর্থনৈতিক সামর্থ্য ও অস্ত্রের দিক থেকে রাশিয়ার তুলনায় পিছিয়ে থাকা ইউক্রেনের জন্য রুশ তেল শোধনাগারে হামলাকে মস্কোর যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা কমানোর অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়। তবে ট্রাম্প বারবার অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেনের হামলার কারণে রাশিয়া ডিজেল রপ্তানি স্থগিত করায় যুক্তরাষ্ট্রে এ বছর জ্বালানির দাম বেড়েছে। তিন সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে বিষয়টি তাঁর রিপাবলিকান দলের জন্য চাপ তৈরি করেছে। যদিও অধিকাংশ বিশ্লেষকের মতে, ইরানে ট্রাম্পের যুদ্ধ জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে অনেক বেশি প্রভাব ফেলেছে।
সোমবার রাশিয়া ইউক্রেনের ছয়টি জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। তবে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামোয় নতুন হামলার খবর পাওয়া যায়নি। রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে এসব স্থাপনা এড়িয়ে গেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের এক মুখপাত্র বলেন, এ নিয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এদিকে ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে রুশ হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, সোমবার রাতে কিয়েভে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে তারা কোনো আগাম নজরদারিভিত্তিক সতর্কবার্তা পায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নরওয়েজিয়ান ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজের ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ ফ্যাবিয়ান হফম্যান বলেন, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের আগাম সতর্কতামূলক গোয়েন্দা তথ্যের বিকল্প দেওয়ার সক্ষমতা ইউরোপীয় মিত্রদের খুবই সীমিত। তাঁর ভাষ্য, ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত মহাকাশভিত্তিক ইনফ্রারেড নজরদারি ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। এই ব্যবস্থার সমতুল্য সক্ষমতা অন্য কোনো দেশের নেই।
সিবিহা বলেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধই প্রমাণ করে, ইউক্রেনের অবস্থান আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে। গত বছর হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে উত্তপ্ত বৈঠকে ট্রাম্প জেলেনস্কিকে বলেছিলেন, ইউক্রেনের হাতে কোনো তাস নেই। সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে সিবিহা বলেন, দুই বছরেরও কম সময়ে ইউক্রেন ‘কোনো তাস নেই’ অবস্থা থেকে ‘নিজেদের তাস না খেলার’ অবস্থানে এসেছে। এটিকে তিনি অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।
জেলেনস্কি আবারও বলেন, উত্তেজনা কমাতে পারস্পরিক পদক্ষেপ নিতে ইউক্রেন প্রস্তুত। একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে মিত্র দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/