দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র বিক্রি ও সামরিক সহায়তার সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ংয়ের অভিযোগ, তাইওয়ান প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়িয়ে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে রাশিয়ার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন।
বুধবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ প্রকাশিত এক মন্তব্যে আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক কিম মিয়ং চোল বলেন, তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি অঞ্চলটির শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাইওয়ানে মার্কিন তৈরি যুদ্ধবিমান সরবরাহেরও সমালোচনা করেন তিনি।
কেসিএনএর ওই মন্তব্যে বলা হয়, তাইওয়ানের নিরাপত্তার জন্য চীনের শক্তিশালী জাতীয় ক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যাওয়ার পরিণতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত কি না, তা ওয়াশিংটনের ভেবে দেখা উচিত।
গত সপ্তাহে তাইওয়ান ২০১৯ সালে অর্ডার করা ৬৬টি নতুন এফ-১৬ভি ব্লক-৭০ যুদ্ধবিমানের প্রথম দুটি গ্রহণ করেছে। বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপের মধ্যেই এসব যুদ্ধবিমান তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে যুক্ত হচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক অবস্থানকে তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের ঘনিষ্ঠতার আরেকটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করলেও তাইপে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে।
গত জুনে পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে কিম জং উন জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও তিনি এক চীন নীতির প্রতি পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত রাখবেন। বেইজিংয়ের কাছে এই নীতির অর্থ, তাইওয়ান প্রণালির দুই পাশ একই দেশের অংশ।
ওই বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, দুই দেশ কূটনীতি, আইন প্রয়োগ, সামরিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়াবে।
চীনের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গেও সামরিক সহযোগিতা জোরদার হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তা করতে উত্তর কোরিয়া সেনা পাঠিয়েছে বলে ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার হিসাব রয়েছে। তাদের অনুমান, ২০২৪ সাল থেকে রাশিয়ার পক্ষে প্রায় ১৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা যুদ্ধে অংশ নিয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেওয়া এক বার্তায় কিম জং উন মস্কোর প্রতি অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে জানিয়েছে কেসিএনএ। তিনি বলেন, দুই দেশ তাদের ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্বের আওতায় যৌথ কাজ অব্যাহত রাখবে।
রাশিয়ার সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা স্বার্থ ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার যুদ্ধকে ন্যায়সংগত যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করে কিম বলেন, তিনি এর বিজয় নিয়ে নিশ্চিত। তবে ওই বার্তায় সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
২০২৪ সালের জুনে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/