দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

উত্তর কোরিয়া পূর্ব উপকূলের সাগর লক্ষ্য করে অন্তত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ শনিবার সকালে জানায়, কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলে বন্দরনগরী ওনসান থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়। এটি ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জরুরি বৈঠক করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কার্যালয়। আরও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের আশঙ্কায় সামরিক বাহিনী সতর্কতা জারি করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের কথা জানিয়েছে তারা।
শনিবার জাপানও জরুরি সতর্কতা জারি করে জানায়, ‘উত্তর কোরিয়া একটি সন্দেহভাজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় কমান্ডও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়টি অবগত থাকার কথা জানিয়েছে। তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে আলোচনা চলছে। বর্তমান মূল্যায়ন অনুযায়ী, এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, ভূখণ্ড বা মিত্রদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি হয়নি।
উৎক্ষেপণের এক দিন আগে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমা চাওয়ার দাবিকে উপহাস করেন। স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ড ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছিল।
ওই বিস্ফোরণে সীমান্ত এলাকায় তল্লাশি অভিযানে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা গুরুতর আহত হন। কোরীয় উপদ্বীপজুড়ে বিস্তৃত চার কিলোমিটার প্রশস্ত ওই সীমান্ত এলাকায় সামরিক সীমারেখার দক্ষিণে উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইন থেকেই বিস্ফোরণগুলো ঘটেছে বলে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাতিসংঘ কমান্ড জানিয়েছে।
সীমান্তে মাইন ও ট্যাংকবিধ্বংসী প্রতিবন্ধক স্থাপনসহ উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারের উদ্যোগ বন্ধ করার আহ্বানও জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
তবে কিম ইয়ো জং সিউলের এসব দাবিকে ‘একেবারেই করুণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে স্থায়ীভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করার পরিকল্পনা করছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক সামরিক তৎপরতার সর্বশেষ ঘটনা এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ। এর আগে দেশটি কথিত অতিদ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা, সরাসরি গোলাবর্ষণ মহড়া এবং একটি নতুন যুদ্ধজাহাজকে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবহরে যুক্ত করার মতো সামরিক কার্যক্রম চালিয়েছে।
/অ