দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বেকারত্বের হার টানা তৃতীয় মাসের মতো ৪ দশমিক ১ শতাংশে স্থির থাকতে পারে। এতে চতুর্থ প্রান্তিকের শুরুতে দেশটির শ্রমবাজার মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল বলে ইঙ্গিত মিলতে পারে।
আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে নন-ফার্ম পেরোল ১ লাখ ৬২ হাজার বেড়েছিল। তবে অর্থনীতিবিদদের ধারণা, সেপ্টেম্বরে এ সংখ্যা কমে ৯০ হাজারে দাঁড়াতে পারে। রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হিসাব ৩৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮০ হাজারের মধ্যে রয়েছে। শুক্রবার দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস (বিএলএস) বহুল প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
আগস্টে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতির পেছনে সরকারের মৌসুমি সমন্বয় পদ্ধতির প্রভাব থাকতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। আরএসএমের প্রধান অর্থনীতিবিদ জো ব্রুসুয়েলাস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে কম নিয়োগ ও কম ছাঁটাইয়ের প্রবণতা বহাল থাকারই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তার মতে, দেশটি বর্তমানে পূর্ণ কর্মসংস্থানের কাছাকাছি রয়েছে এবং নতুন কর্মসংস্থান প্রতিবেদন ফেডারেল রিজার্ভের চলতি বছরের আরেক দফা সুদ বাড়ানোর অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না।
বার্কলেসের প্রধান মার্কিন অর্থনীতিবিদ মার্ক জিয়ানোনি বলেন, সেপ্টেম্বরের তথ্য যুক্ত হওয়ার পর বিএলএস আগস্টের কর্মসংস্থান পরিসংখ্যান পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে। তার মতে, মৌসুমি সমন্বয় আগস্টের কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে বাস্তবের তুলনায় বেশি দেখিয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টের মৌসুমি সমন্বয় সূচক ব্যবহার করা হলে ওই মাসে কর্মসংস্থান ৭৪ হাজার কমত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এখনো মার্কিন শ্রমবাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে—এমন কোনো লক্ষণ নেই। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহব্যবস্থায় চাপসহ বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব বছরের শেষ দিকে শ্রমবাজারে দেখা দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে রয়েছে। এর প্রভাব পরিবহন ও কৃষির বাইরেও বিভিন্ন খাতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শুল্কনীতিও ব্যবসায়ীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ইনস্টিটিউট ফর সাপ্লাই ম্যানেজমেন্টের এক জরিপে কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে উৎপাদন খাতের উদ্বেগ বাড়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।
তবে শক্তিশালী করপোরেট মুনাফা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা এখনো কর্মীদের ছাঁটাই থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে কম ছাঁটাইয়ের হার শ্রমবাজারকে স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখছে, যদিও নতুন নিয়োগের গতি তুলনামূলকভাবে ধীর।
সেপ্টেম্বরে অবসর ও আতিথেয়তা খাত এবং স্থানীয় সরকারের শিক্ষা খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জন্য ডেটা সেন্টার নির্মাণের কারণে নির্মাণ খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।
উৎপাদন খাতেও টানা চতুর্থ মাসের মতো দুই অঙ্কের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে। এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
এদিকে শত শত হাজার হাইতিয়ান অভিবাসীর টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বাতিলের প্রভাব শ্রমবাজারে কবে দৃশ্যমান হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ব্যাংক অব আমেরিকা সিকিউরিটিজের অর্থনীতিবিদ শ্রুতি মিশ্রের মতে, এর প্রভাব এককালীন বড় ধাক্কার বদলে কয়েক মাস ধরে ধীরে ধীরে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের হিসাবে, কর্মক্ষম বয়সী জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মাসে ৫০ হাজার থেকে ৮০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা প্রয়োজন। অভিবাসনবিরোধী নীতির পাশাপাশি কর্মীদের অবসরের কারণে শ্রমের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেকারত্বের হারও তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকতে পারে।
তবে বেকারত্বের হার কম থাকলেই শ্রমবাজার শক্তিশালী—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। এ ক্ষেত্রে মজুরি বৃদ্ধির হারও গুরুত্বপূর্ণ। সেপ্টেম্বরে মজুরি এক বছর আগের তুলনায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ বাড়তে পারে, যা আগস্টে ছিল ৩ দশমিক ১ শতাংশ। এতে শ্রমবাজার মূল্যস্ফীতির বড় উৎস হয়ে উঠছে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো নীতিগত সুদহার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করে। তবে জুলাই ও আগস্টে প্রত্যাশার তুলনায় কম মূল্যস্ফীতি প্রকাশের পর চলতি মাসে আবার সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা কমেছে।
সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, ২৭-২৮ অক্টোবরের বৈঠকে ফেডের সুদহার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা বর্তমানে প্রায় ২৮ শতাংশ। এক সপ্তাহ আগেও এ সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৬৯ শতাংশ।
সিটিগ্রুপের অর্থনীতিবিদ ভেরোনিকা ক্লার্ক বলেন, জনসংখ্যাগত কারণে শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের হার কমে যাওয়ার ফলে বেকারত্বের হার কমলে সেটিকে মজুরি বৃদ্ধির চাপ তৈরি করা শক্তিশালী শ্রমবাজার হিসেবে দেখা উচিত নয়।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/