দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

৭ অক্টোবর হামাসের হামলার তৃতীয় বার্ষিকী ঘিরে ইসরায়েলি ও ইহুদিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। একই সঙ্গে বিদেশে থাকা ইসরায়েলিদের সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক ভ্রমণ সতর্কবার্তায় জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানায়, ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠী, হামাস এবং বৈশ্বিক জিহাদি সংগঠনগুলো ৭ অক্টোবরকে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন হিসেবে দেখছে।
এ কারণে বুধবার জর্ডান, কাতার, সোমালিল্যান্ড ও মিসর ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সিনাই উপদ্বীপও রয়েছে।
অন্যান্য দেশে থাকা ইসরায়েলিদের জনসমাগমপূর্ণ স্থানে হিব্রু ভাষায় কথা বলা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। বিক্ষোভ ও সমাবেশ থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনীতে কাজ করার পরিচয় প্রকাশ করে এমন কোনো পোস্ট না দেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে হাজারো হামলাকারী দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রবেশ করে হামলা চালায়। এতে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হন। ওই হামলার পর গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরু হয়।
গত দুই বছর ৭ অক্টোবরের বার্ষিকী ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন বড় শহরে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। এ বছরও বিভিন্ন দেশে একই ধরনের কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচন। নির্বাচন সামনে রেখে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান আইয়াল জামির, পুলিশ কমিশনার ড্যানি লেভি ও শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনি।
মঙ্গলবার তেল আবিবে সেনাপ্রধানের কার্যালয়ে ওই বৈঠক হয়। সেখানে ইসরায়েলের সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করা হয়।
এক যৌথ বিবৃতিতে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদার এবং জাতীয়তাবাদী সহিংসতা মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নির্বাচনের সময় পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাখতে তিনটি সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মন্ত্রিসভার বৈঠকে বলেছিলেন, নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করতে হামাস নির্বাচনের আগে ইসরায়েলে হামলার চেষ্টা করতে পারে। তবে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েল প্রস্তুত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এবারের নির্বাচন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর ইসরায়েলে প্রথম জাতীয় নির্বাচন। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে চ্যাটজিপিটির মতো প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহারের পর এটিই প্রথম নির্বাচন। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ছড়ানো ও সামাজিক উত্তেজনা বাড়ানোর ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির মহাপরিচালক ডিন লিভনে বলেছেন, বিদেশি দেশ ও বিভিন্ন সংগঠন ইসরায়েলের নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের হস্তক্ষেপ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সুত্র-টাইমস অব ইসরায়েল
এমএম/