দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ এবং নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে ভারতের প্রভাবশালী জেন-জি নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ’ আন্দোলনকারীরা আবারও রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিয়েছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতেও শুক্রবার মুম্বাইয়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে আন্দোলনটির নেতৃত্বদানকারী ককোরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
অনলাইনভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে যাত্রা শুরু করা সিজেপি গত জুলাইয়ে প্রথম বড় সাফল্য পায়। শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভের পর তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে সমর্থকদের জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিজেপি। সংগঠনটির ভাষ্য, গণতন্ত্র রক্ষার পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতেই এ কর্মসূচি।
সিইসি জ্ঞানেশ কুমার বা নির্বাচন কমিশন সিজেপি কিংবা বিরোধী দলগুলোর পদত্যাগের দাবির বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ভোট চুরি বা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগের বিষয়েও তারা কোনো মন্তব্য করেনি। এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানতে বিবিসির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে।
সিজেপি জানিয়েছে, মুম্বাইয়ের কর্মসূচিটি অক্টোবরজুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক বিক্ষোভের প্রথম কর্মসূচি। এসব কর্মসূচির পর দিল্লিতে বড় সমাবেশের পরিকল্পনাও রয়েছে। সংগঠনটির দাবি, মুম্বাই পুলিশ তাদের বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। তবে বড় জমায়েতের আশঙ্কায় শহরটিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাজ্যের কয়েকটি প্রধান বিরোধী দলও কর্মসূচিতে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
সম্প্রতি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার এমন কিছু সিদ্ধান্ত ও আদেশ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন, যেগুলো তাদের অবগতির বাইরে নেওয়া হয়েছিল বলে তারা দাবি করেন। দেশটির ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) নিয়েই মূলত তাদের আপত্তি ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে দ্বৈত ও অযোগ্য ভোটারদের বাদ দেওয়ার লক্ষ্যেই এসআইআর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩ কোটি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বিরোধী দল ও বিভিন্ন অধিকারকর্মীর অভিযোগ, বাদ পড়াদের অনেকেই বৈধ ভোটার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)কে নির্বাচনী সুবিধা দিতে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় কারচুপি করা হচ্ছে। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন উভয়েই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুই নির্বাচন কমিশনার ভোটার ডেটাবেজের নির্ভরযোগ্যতা, নতুন ভোটার নিবন্ধনের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এবং ভোটার তালিকার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
নির্বাচন কমিশন অবশ্য তাদের কার্যক্রমের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক। কমিশনের দাবি, সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিরোধী দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কংগ্রেস নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের ভোট চুরির অভিযোগ করে আসছেন এবং ভোট চুরিতে জড়িত কর্মকর্তাদের বিশ্বাসঘাতক বলে আখ্যা দিয়েছেন। আরেক বিরোধী নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিইসির গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার প্রায় দুই ডজন বিরোধী দলের জোট ইন্ডিয়া অ্যালায়েন্স জানিয়েছে, তারাও আগামী দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করবে। আগামী ৬ অক্টোবর বিরোধী দলের সব সংসদ সদস্য দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে মিছিল করবেন বলেও জোটটি জানিয়েছে।
মুম্বাই পুলিশের অনুমতি না পাওয়ার পরও সিজেপির নেতা দীপকে জানিয়েছেন, তারা বিক্ষোভে জড়ো হবেন। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করলে ‘জেল ভরো আন্দোলন’ কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক অ্যানিমেশন ভিডিওতে সিজেপি বলেছে, ভোট দেওয়া নাগরিকের অধিকার। কোনো যোগ্য ভোটারকে ভোট দেওয়ার সুযোগ না দেওয়া গণতন্ত্রের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। সংগঠনটির দাবি, নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং সিইসিকে পদত্যাগ করতে হবে। তাদের ভাষ্য, এটি কোনো একটি দলের লড়াই নয়; বরং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং প্রত্যেক নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/