দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলে হামলা হলে পারমাণবিক অস্ত্রসহ দেশের অস্ত্রভাণ্ডারে থাকা সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তেজনা আরও বাড়ানোর বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলোকে সতর্ক করেছেন।
বৃহস্পতিবার মস্কোয় ভালদাই ডিসকাশন ক্লাবে বক্তব্য দেওয়ার সময় পুতিন বলেন, ইউরোপের কোনো দেশে হামলার পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই। তবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা আগ্রাসন হলে তার জবাব দিতে প্রস্তুত মস্কো।
পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে অবস্থিত রাশিয়ার বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদের প্রসঙ্গ তুলে পুতিন বলেন, রুশ ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা হলে দেশের অস্ত্রভাণ্ডারে থাকা সব অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি অনিবার্যভাবে সামনে আসবে। তিনি এ ধরনের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে সতর্ক করেন।
কালিনিনগ্রাদকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে বাল্টিক সাগরে ন্যাটোর সামরিক মহড়া নিয়ে মস্কোর উদ্বেগের মধ্যেই পুতিন এ হুঁশিয়ারি দিলেন। ন্যাটো এসব মহড়াকে প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদারের জন্য প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এর আগে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে মস্কো সতর্ক করে বলেছিল, ন্যাটো সমুদ্র বা আকাশপথে কালিনিনগ্রাদ অবরোধের চেষ্টা করলে রাশিয়া পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।
পুতিন আরও বলেন, বাল্টিক সাগরে ধারাবাহিক সামরিক মহড়া, রুশ জাহাজ আটকানোর চেষ্টা এবং কালিনিনগ্রাদ নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য—সব মিলিয়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
এদিকে ন্যাটো, ইউরোপের কয়েকটি দেশ ও যুক্তরাজ্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাইবার হামলা, নাশকতা ও গুপ্তচরবৃত্তিসহ বিভিন্ন ধরনের হাইব্রিড যুদ্ধ পরিচালনার অভিযোগ করে আসছে। রাশিয়া এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের পঞ্চম বছরে রাশিয়া হামলা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ও রাজধানী কিয়েভে হামলা জোরদার করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির বিভিন্ন শহরে জ্বালানি সংকট ও দীর্ঘ লাইনের খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবারের বক্তব্যে পুতিন স্বীকার করেন, ইউক্রেনের হামলা রাশিয়ার অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। তার দাবি, এসব হামলার কারণে রাশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ১ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের সামরিক তৎপরতায় রাশিয়ার শতাধিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে এসব ক্ষতির পরও ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান থেকে পিছু হটার ইঙ্গিত দেননি পুতিন। এর আগে রাশিয়ার অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে বলে দাবি করলেও সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি ইউক্রেনের হামলায় অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা স্বীকার করেন।
ইউক্রেন যুদ্ধ অব্যাহত রাখার অবস্থানের পাশাপাশি পুতিন বলেন, তিনি আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসান চান। তবে যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেননি তিনি।
এদিকে রয়টার্সের পর্যালোচনা করা রাশিয়ার বাজেট নথি অনুযায়ী, ২০২৭ সালে প্রতিরক্ষা খাতে ১৭ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন রুবল বা প্রায় ২০৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে মস্কো। পূর্ণমাত্রার ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এটি সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা ব্যয় হতে যাচ্ছে, যা আগের বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/