দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে নতুন যুদ্ধে জড়াতে বিমান ছিনতাইয়ের একটি ‘ফলস ফ্লাগ’ অভিযান সাজানোর পরিকল্পনা করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আঞ্চলিক সূত্র এমন দাবি করেছে।
ওই সূত্রের দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি ফ্লাইদুবাই উড়োজাহাজ ছিনতাই এবং পরে সেটিকে সৌদি আরবে অবতরণের ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত একটি ‘নাটক’। বুধবার ঘটনাটি ঘটার তিন দিন আগে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে নেতানিয়াহু সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছিলেন বলেও দাবি করেছে সূত্রটি।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর ওই সফরেই কথিত অভিযানটি নিয়ে আলোচনা ও পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। সফরের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ইসরায়েলের আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা দেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি আরব দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বহুপক্ষীয় বৈঠক হয়। সেখানে এমন একটি ‘ফলস ফ্লাগ’ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করা হয়, যার দায় পরবর্তী সময়ে ইরানের ওপর চাপানো সম্ভব হবে বলে সূত্রটি দাবি করেছে।
সূত্রটির ভাষ্য, এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল ট্রাম্পকে নতুন একটি সংঘাতে জড়িয়ে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করা।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গেও কথিত পরিকল্পনাটির যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি করেছে ওই সূত্র। তার ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে নেসেটে নির্বাচন হলে নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।
সূত্রটি আরও দাবি করেছে, ক্ষমতা হারালে নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিক জীবনের বাকি সময় কারাগারে কাটাতে হতে পারে। হোয়াইট হাউস ও ট্রাম্পের ওপর নেতানিয়াহুর প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাকে আবারও ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা কাজে লাগিয়ে নিজের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়াও নেতানিয়াহুর কথিত লক্ষ্য বলে দাবি করেছে সূত্রটি।
এদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গতিবিধি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওই সূত্র। নেতানিয়াহুর কথিত পরিকল্পনার অজুহাতে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার জবাব দেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে বলে দাবি করেছে সূত্রটি।
নেতানিয়াহুর আমিরাত সফরের পরই উড়োজাহাজের ঘটনা
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এর কয়েক দিন পরই উড়োজাহাজের ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার দিন বুধবার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। আরবি ভাষায় দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশটিকে নিরাপত্তা দিতে পারেনি; সেখানে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে আতিথেয়তা দেওয়ার ফলও ভালো হবে না।
আবুধাবিকে আগের যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং নতুন করে যুদ্ধ উসকে দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানান রেজাই। একই সঙ্গে আবু মুসা, গ্রেটার তুনব ও লেসার তুনব দ্বীপ নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন দাবি বন্ধ করার আহ্বানও জানান তিনি।
উড়োজাহাজের ঘটনাটির আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ওই অঞ্চলে নেতানিয়াহুর উপস্থিতির নিন্দা করে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই উপস্থিতিকে ‘উসকানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে মন্ত্রণালয় সতর্ক করে যে, পশ্চিম এশিয়া যখন অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন এমন উপস্থিতির ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিণতি’ হতে পারে।
বিবৃতিতে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং ফিলিস্তিন ও লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতার কথাও উল্লেখ করা হয়। আঞ্চলিক শান্তি ও সম্মিলিত নিরাপত্তার ওপর প্রভাবের আশঙ্কা জানিয়ে অঞ্চলটির সব দেশকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানায় তেহরান।
তবে প্রেস টিভির প্রতিবেদনে করা এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকেও এসব দাবির বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
/অ