দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাশিয়ার বাল্টিক অঞ্চলের বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদে সরাসরি হামলা হলে দেশটির হাতে থাকা সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পশ্চিমা দেশগুলো কালিনিনগ্রাদকে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করলেও একই ধরনের প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
ভালদাই বৈদেশিক নীতি ফোরামে দেওয়া এক বক্তৃতায় পুতিন বলেন, রাশিয়া কাউকে হুমকি দিচ্ছে না। বরং ২০২৯ বা ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়া যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে পশ্চিমা নেতাদের বক্তব্যের জবাব দিচ্ছে মস্কো।
পুতিন বলেন, ২০২৯, ২০৩০ বা ২০৫০ সালে কারও ওপর হামলার কোনো পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই। তবে রাশিয়ার ওপর আগ্রাসন হলে মস্কোকে প্রতিক্রিয়া জানাতেই হবে। এ বিষয়ে ইউরোপের নাগরিকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
চলতি সপ্তাহে রাশিয়া অভিযোগ করেছে, ন্যাটো কালিনিনগ্রাদ অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যবর্তী বাল্টিক উপকূলে অবস্থিত কালিনিনগ্রাদ রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি ভূখণ্ড। বাল্টিক সাগরে ন্যাটোর নৌ মহড়াকে কালিনিনগ্রাদের জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখছে মস্কো।
কালিনিনগ্রাদকে রাশিয়ার বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা হলে পারমাণবিক অস্ত্রসহ সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় আসবে বলেও পুতিন জানান।
ন্যাটো অবশ্য রাশিয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। জোটটির মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছেন, ন্যাটো একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট এবং তাদের কোনো মহড়া বা কার্যক্রম মস্কোর জন্য হুমকি নয়। রাশিয়ার পারমাণবিক হুমকির বক্তব্যও বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পোল্যান্ড ও বাল্টিক অঞ্চলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘হাইব্রিড যুদ্ধের’ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। গত সপ্তাহে পোল্যান্ড জানিয়েছিল, কালিনিনগ্রাদের কাছে একটি রুশ হেলিকপ্টার তাদের আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছিল। লিথুয়ানিয়াও রুশ ড্রোন তাদের আকাশসীমায় প্রবেশের অভিযোগ করেছে।
ভালদাই ফোরামের বক্তব্যে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন পুতিন। তিনি আবারও দাবি করেন, পশ্চিমা দেশগুলোর পদক্ষেপের কারণে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালাতে বাধ্য হয়েছে। ইউক্রেনের তেল শোধনাগার ও কৃষ্ণসাগরে রুশ জাহাজে হামলার জবাবেই রাশিয়া ইউক্রেনের অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
পুতিন স্বীকার করেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলায় দেশটির অর্থনীতিতে প্রভাব পড়েছে এবং এতে রাশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদন প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনায় অর্থ জোগানের সক্ষমতা কমাতেই দেশটির তেল অবকাঠামোতে হামলা চালানো হচ্ছে।
ভাষণে পুতিন আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সংঘাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তার দাবি, পশ্চিমা আধিপত্য কমে গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। একই সঙ্গে পারমাণবিকসহ ব্যাপক ধ্বংসক্ষম অস্ত্রের উপস্থিতির কারণে ভুল হিসাব বা উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেন তিনি।
/অ