দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রায় তিন বছর পর শনিবার গাজার কয়েক লাখ শিশু আবারও শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে। তবে যুদ্ধের ক্ষত এখনো স্পষ্ট—অনেক শিক্ষার্থীকে ধ্বংসপ্রাপ্ত বা অস্থায়ী স্কুল ভবন ও তাঁবুতে ক্লাস করতে হচ্ছে। অনেক পরিবারের কাছে স্কুলের পোশাক, খাতা ও কলম কেনাও হয়ে উঠেছে কঠিন।
জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, গাজার ৯৮ শতাংশ স্কুল যুদ্ধের সময় ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাজার শিক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা নেওয়া ও নিয়মিত শিক্ষাকার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
পূর্ব খান ইউনিসের শিক্ষা বিভাগের পরিচালক ইব্রাহিম রমাদান বলেন, যুদ্ধে প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থী এবং ৭৭০ জনের বেশি শিক্ষা খাতের কর্মী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫৩২ জন শিক্ষক রয়েছেন বলে জানান তিনি।
খান ইউনিসের শিক্ষার্থী মোয়াদ আবু মুস্তাফা বলেন, প্রায় তিন বছর পর তিনি আবার স্কুলে ফিরেছেন। তাঁবুর মেঝেতে বসে, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না থাকা পরিবেশে ক্লাস করতে হবে। ভালো জুতা, খাতা-কলমও নেই তাঁর। যুদ্ধের সময় কয়েকজন বন্ধুকেও হারিয়েছেন তিনি। তবু পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়ে মোয়াদ বলেন, এসবের পরও আমরা শিখব, তাঁবুতেও শিখব।
বাস্তুচ্যুত ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সামার আবু সালমিও পরিবারের সঙ্গে একটি তাঁবুতে বসবাস করছেন। যুদ্ধের সময় মোবাইল ফোনে পড়াশোনা করলেও শিক্ষকদের সরাসরি দেখতে পাননি তিনি। অস্থায়ী স্কুলে ফিরে নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যেতে চান সামার।
তিনি বলেন, যুদ্ধের আগে খাতা, কলম, পোশাকসহ প্রয়োজনীয় জিনিস সহজলভ্য ছিল। এখন এসব পণ্য পরিবারের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরু করেছে গাজার শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের সহায়তায় তাঁবু, ত্রিপল, টিন ও কাঠ দিয়ে কয়েক ডজন অস্থায়ী স্কুল তৈরি করা হয়েছে। কোথাও বালুর ওপর এসব স্কুল স্থাপন করা হয়েছে, আবার কোথাও কয়েকটি গদি ও একটি ব্ল্যাকবোর্ড দিয়েই শ্রেণিকক্ষ তৈরি করা হয়েছে। কিছু স্কুলে এখনো বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো বসবাস করছে।
১৪ বছর বয়সী ইয়ামেন আবু সামরা বলেন, আগে স্কুলে যাওয়ার জন্য তারা আনন্দ নিয়ে ঘুম থেকে উঠত। এখন স্কুলে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে গুলি, রকেট ও হামলার আশঙ্কা কাজ করে। তাঁবুর শ্রেণিকক্ষে বসে প্রচণ্ড গরম ও সূর্যের তাপ সহ্য করতে হচ্ছে বলেও জানায় সে।
শিক্ষা কর্মকর্তাদের হিসাবে, ইউনিসেফের সহায়তায় এ বছর অন্তত ৫ লাখ ৪০ হাজার শিক্ষার্থী অস্থায়ী বেসরকারি স্কুল, অস্থায়ী শিক্ষা কেন্দ্র ও বিভিন্ন শিক্ষাকেন্দ্রে সরাসরি ক্লাস করবে। যারা স্কুলে যেতে পারবে না কিংবা যুদ্ধের সময় গাজা ছেড়ে গেছে, তাদের জন্য অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমও চালু থাকবে।
গত বছরের যুদ্ধবিরতিতে বড় ধরনের লড়াই কিছুটা থামলেও সংঘাত পুরোপুরি শেষ হয়নি। ইসরায়েলি বাহিনী এখনো গাজার ৬০ শতাংশের বেশি এলাকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের নেতৃত্বাধীন যোদ্ধাদের হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হওয়ার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হয়। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই অভিযানে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
গাজার স্টেশনারি ব্যবসায়ী ৩০ বছর বয়সী খালেদ আলিয়ান বলেন, ইসরায়েলের আমদানি বিধিনিষেধের কারণে সরবরাহ কমেছে এবং পণ্যের দাম বেড়েছে। তাঁর দাবি, যে খাতাটির দাম আগে ৩ শেকেল ছিল, এখন সেটিই বিক্রি হচ্ছে ১৫ শেকেলে। অন্যান্য স্টেশনারি পণ্যের দামও বেড়েছে বলে জানান তিনি।
গাজায় পণ্য প্রবেশ নিয়ন্ত্রণকারী ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা কোঅর্ডিনেটর অব গভর্নমেন্ট অ্যাক্টিভিটিজ ইন দ্য টেরিটরিজ বা কোগাট সরবরাহে বিধিনিষেধ এবং স্কুলে হামলার বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। ইসরায়েল এর আগে একাধিকবার হামাসের বিরুদ্ধে স্কুলগুলো সামরিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ করেছে। তবে হামাস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/