দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তেহরানে ফরাসি দূতাবাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ফরাসি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স। একই সঙ্গে পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রোববার ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পাসকাল কনফাভ্রু এক বিবৃতিতে বলেন, গত জুলাইয়ে তেহরানে ফরাসি দূতাবাসের দুই কর্মীর ওপর হামলার পর এবার ইরানে ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক উপস্থিতির ওপর নতুন করে আঘাত করা হয়েছে। এ ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পরমাণু কর্মসূচি এবং ইরানে কয়েকজন ফরাসি নাগরিককে আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েক বছর ধরে দুই দেশের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। আটক ফরাসি নাগরিকদের মুক্তির পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও গত গ্রীষ্মে ফরাসি দুই কূটনীতিককে গ্রেপ্তার ও পরে বহিষ্কারের ঘটনায় আবারও সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ফ্রান্সও ইরানি কূটনীতিক বহিষ্কার করে।
ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তেহরানের প্রসিকিউটর কার্যালয়ের বিচারিক আদেশের পর রোববার ফরাসি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি ভাষা শেখানোর আড়ালে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল এবং লাইসেন্স নেওয়ার জন্য বারবার সতর্ক করা হলেও তা মানেনি। কেন্দ্রটির বিরুদ্ধে ইরানি সংস্কৃতি ও জাতীয় নিরাপত্তাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও তুলেছে কর্তৃপক্ষ।
ইরানের অভিযোগ, কেন্দ্রটি বিভিন্ন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা ও নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং দক্ষ ইরানিদের দেশ ছাড়তে সহায়তা করার মতো কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল।
ফ্রান্স অবশ্য এর আগেও এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। প্যারিসের দাবি, বছরের শুরুতে বিক্ষোভ দমনের পর ইরানের নাগরিক সমাজের প্রতি সমর্থন ও যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফরাসি কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর ধারাবাহিকভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।
এদিকে কূটনীতিকদের ভাষ্য, সম্প্রতি ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারোর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নিয়েও ইরান ক্ষুব্ধ। মাহসা আমিনির মৃত্যুর চতুর্থ বার্ষিকী উপলক্ষে ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছিল। ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।
এর প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ওই পোস্টকে কুমিরের কান্না বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে আলজেরিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১৫ লাখ আলজেরীয়কে হত্যার অভিযোগ তোলেন তিনি।
আরাকচি ইরানে একটি হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন, যেটির জন্য তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে আসছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন তাদের স্কুলশিক্ষার্থীদের হত্যা করেছিল, তখন ফ্রান্সের নীরবতাই অনেক কিছু বলে দিয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার ফ্রান্স ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরির পর ওই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/