দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরও কমেছে। সপ্তাহান্তে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে মোট ১৭টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। এক সপ্তাহ আগে একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৩৭টি।
সোমবার প্রকাশিত জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রধান পথ ছিল হরমুজ প্রণালি। তবে বর্তমানে দৃশ্যমান জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
অবশ্য মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে ট্যাংকারে করে তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রোববার শনাক্ত করা যায় এমন পাঁচটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে বেরিয়ে গেছে। একই সময়ে ছোট আকারের দুটি তেলবাহী ট্যাংকার উপসাগরে প্রবেশ করেছে।
হরমুজ প্রণালি থেকে বেরিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে ছিল পিনিওস নামের একটি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি), পরিশোধিত তেলজাতীয় পণ্যবাহী দুটি ট্যাংকার এবং খালি দুটি বাল্ক ও গ্যাসবাহী জাহাজ।
কেপলার ও এলএসইজি তথ্য অনুযায়ী, পিনিওস সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ উপকূলে ইরাকের বসরাহ অঞ্চলের প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিউ কনস্ট্যান্ট নামের আরেকটি ভিএলসিসিতে স্থানান্তর করছিল। নিউ কনস্ট্যান্টের গন্তব্য চীন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পিনিওস পরিচালনাকারী ডাইনাকম এবং নিউ কনস্ট্যান্টের ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান অ্যাসোসিয়েটেড মেরিটাইম কোম্পানি হংকং লিমিটেড তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।
শনিবারও অপরিশোধিত তেল, কৃষিপণ্য, পরিশোধিত তেলজাতীয় পণ্য, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস ও সার বহনকারী আটটি জাহাজ উপসাগর ছেড়ে যায়। একই সময়ে একটি বড় গ্যাসবাহী জাহাজ ও একটি ভিএলসিসি উপসাগরে প্রবেশ করে।
কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে যাওয়া শানডং রেডউড এলএনজি ট্যাংকারটি ১৯ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে। কেপলার ও এলএসইজির তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি এখন পাকিস্তানের দিকে যাচ্ছে। জাহাজটির ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান শানডং মেরিন এনার্জিও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত। এসব জাহাজের মধ্যে তেলবাহী ট্যাংকার, গ্যাসবাহী জাহাজ, বাল্ক ক্যারিয়ার ও কনটেইনারবাহী জাহাজ ছিল।
ইরান যুদ্ধের সময় সৌদি আরবের তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হুতিদের হামলার পর চলতি মাসে ও আগামী মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি বাড়িয়েছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ সেপ্টেম্বরের সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ২২টি ট্যাংকার প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে বের হয়েছে। এসব জাহাজের বেশিরভাগই ভিএলসিসি। মোট তেলের পরিমাণের ৪৩ শতাংশ করে সৌদি আরব ও ইরাকের।
লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে সপ্তাহান্তে ৫১টি জাহাজ চলাচল করেছে। এর মধ্যে ৩৩টি প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে গেছে। বেরিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে একটি আফ্রাম্যাক্স আকারের ট্যাংকারে সৌদি আরবের প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল।
আগের সপ্তাহান্তে বাব আল-মান্দাব দিয়ে ৫৭টি জাহাজ চলাচল করেছিল। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই নৌপথেও জাহাজ চলাচল কমেছে।
এদিকে লোহিত সাগরের তীরে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ১৬ সেপ্টেম্বরের পর থেকে দৃশ্যমান কোনো তেল বোঝাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/