দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকের বর্তমান প্রজন্মে নিজস্ব সৃষ্টিশৈলী ও বাস্তবধর্মী গল্পের মাধ্যমে আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন আহমেদ জসিম। তার নাটকগুলো শুধু বিনোদন নয়, বরং সমাজের বাস্তবতা, ভালোবাসা, পারিবারিক সম্পর্ক ও নৈতিকতার প্রতিচ্ছবি।
ব্যবসায় শিক্ষায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকলেও আহমেদ জসিমের মন ছিল মানবজীবনের গল্প বলতে। তিনি বলেন, ‘সংখ্যা দিয়ে লাভ-ক্ষতি মাপা যায়, কিন্তু মানুষের অনুভূতি মাপা যায় না। তাই আমি নাটককে বেছে নিয়েছি।’ সীমিত বাজেটের মধ্যে উদ্দীপনা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি নাট্যাঙ্গনের স্বীকৃতি ও দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন।
আহমেদ জসিমের নাটকের চিত্রনাট্যে থাকে বাস্তবতা, সংলাপে থাকে জীবনের সুর। তিনি নিজেই গল্প ও সংলাপ রচনা করেন, যেখানে সমাজের মানুষ, তাদের টানাপোড়েন, প্রেম, অনুশোচনা ও আত্মজিজ্ঞাসা ফুটে ওঠে। তার উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো: ‘তালাকনামা’, ‘নির্মম’, ‘এতিম’, ‘অভিমানী মা’ ও ‘নীলাম্বরী’।

পরিচালক হিসেবে জসিম বিশ্বাস করেন, একটি ভালো নাটক তৈরি হয় দলের সমন্বয়ে। তার নাটকে নিয়মিত কাজ করেন আশিকুর রাহমান ও আরিফ হোসেন অর্ণব (প্রধান সহকারী পরিচালক), তাহমিনা খাতুন ও মহিবুল হাসান (শিল্প নির্দেশক), সোহাগ শরীফ, সুজন মেহমুদ, জাহেদ নান্নু (চিত্রগ্রাহক), রেজাউল ইসলাম, ইয়াসিন ও অভি শরীফ (চিত্রগ্রহণ সহকারী)। সম্প্রতি তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ‘মায়ার শিকল’সহ অন্যান্য নাটককে করেছে দর্শকনন্দিত।
আহমেদ জসিম মনে করেন, নাটক তখনই সফল হয় যখন দর্শক চরিত্রে নিজের ছায়া খুঁজে পায়। এই দর্শককেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিই তার নাটককে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে। সমালোচকরা বলেন, তার নাটকে আছে বাস্তবতার শুদ্ধতা ও আবেগের আন্তরিকতা। দর্শকরা বলেন, ‘আহমেদ জসিমের নাটক দেখতে গেলে মনে হয় গল্পটা আমাদেরই।’
বর্তমানে তিনি নতুন সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধভিত্তিক নাটক নির্মাণে কাজ করছেন। তিনি চান, প্রতিটি নাটক যেন সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, ‘আমি চাই, আমার নাটক দেখে কেউ নিজের ভুল বুঝুক, নিজের জীবনের দিক পরিবর্তন করুক—তাহলেই আমি সার্থক।’
বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকের এই সময়ে আহমেদ জসিম যেন এক নতুন শ্বাস। তিনি ভালোবাসাকে দেখেন নৈতিকতার আলোয়, সমাজকে দেখেন মানবতার চোখে। তার নাটক একদিকে বিনোদন দেয়, অন্যদিকে শেখায়—‘ভালোবাসা মানে দায়িত্ব, আর সমাজ মানে একে অপরের প্রতি মানবিক দায়।’
এমএস/