দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আতিকুল ইসলামের পদত্যাগের জন্য রোববার (১৮ আগস্ট) পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। তবে, পদে থাকার বিষয়ে অনড় ভিসি। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ।
তারা বলছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরু থেকেই ভিসি শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে প্রকাশ্যে লড়াই চালিয়ে গেছেন। গত ১৮ জুলাই ও ৫ আগস্ট সরাসরি ভিসির সিদ্ধান্তেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় পুলিশ, ছাত্রলীগ ও সরকারপন্থীরা শিক্ষার্থীদের মারধর করছিল। এই দু’দিন অনেক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। যাদের অনেকে এখনো চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই উপাচার্য পদত্যাগ না করলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান বাড়ছে, অথচ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কমছে। দলীয়করণের জন্যই ভালো শিক্ষকরা চলে যাচ্ছেন। অনেকে আবার পদোন্নতি বঞ্চিত। এই ভিসি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে তৃতীয় মেয়াদে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন।
তৌসিফ নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের ওপর সবচেয়ে বড় আক্রমণটা হয়েছে ১৮ জুলাই ও ৫ আগস্ট। এই দুই দিন পুলিশ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের লোকেরা নর্থ সাউদের শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি ও দেশি অস্ত্র নিয়ে সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছে। আমরা রক্তাক্ত ছিলাম, বড় অসহায় ছিলাম। রক্তাক্ত শরীর নিয়ে জীবন বাঁচাতে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে যাই; তখনই গেইট বন্ধ করে দেওয়া হলো। এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কী হতে পারে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ই আমাদের মৃত্যুর পথ তৈরি করে দিলো। ওই সময় যারা ছিলাম তারা ছাড়াই কেউ-ই বুঝবে না; কী পরিস্থিতি পার করেছি আমরা। এই ঘটনার জন্য পুরোপুরি দায় আমাদের ভিসি। আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ভিসির ‘অ্যাগ্রেসিভ’ নির্দেশনা পুরোপুরি বাস্তায়ন করা হয়েছে।’
শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের সামনে বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান ভিসি। তিনি ফ্যাসিস্টের দালাল। তিনি তো সাধারণ শিক্ষক নন, তিনি ভিসি; আমাদের সবার অভিভাবক। ভিসি এমন নগ্ন দালালি করতে পারেন না। এখনো ভিসির শুভ বুদ্ধি উদয় হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা এখনো শান্তিপূর্ণ আছে। তারা চায়, ভিসির এখনো যতটুকু সম্মান আছে, তা বজায় রেখে তিনি পদত্যাগ করুন।
ভিসি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের নানাভাবে ভয়-ভীতি দেখিয়েছেন। আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকা শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া এবং আন্দোলন থেকে না সরলে সরকারি দলের লোকেরা বড় ক্ষতি করতে পারে এমন হুমকিও দিয়েছেন। শিক্ষকদেরও তিনি একই কায়দায় হুমকি দিয়েছেন। গত ৫ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত তিনি সরকারের পক্ষে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে লড়ে গেছেন। যে ভিসি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের না, আমরা তাকে চাই না।
প্রসঙ্গত, ভিসির পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে আদায়ে শনিবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা উপাচার্যের পদত্যাগে রোববার (১৮ আগস্ট) দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন।
গত বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসের ৮ নম্বর গেটের সামনে শিক্ষার্থীরা ভিসির পদত্যাগের জন্য আল্টিমেটাম দেন। পদত্যাগ না করলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।
সে সময় তারা জানান, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা হত্যাকারী ও ফ্যাসিজমের সমর্থক এবং কলুষিত রাজনীতির পৃষ্ঠপোষক ভিসি অধ্যাপক আতিকুল ইসলামকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে। অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম দেশের প্রথম তৃতীয় মেয়াদে ভিসি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। যা দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন নজির নেই। তিনি আওয়ামী সরকারের একজন দালাল হিসেবে পরিচিত। আমরা খুবই লজ্জিত এ কারণে যে, আমাদের ভিসি ও প্রক্টর ফ্যাসিবাদের সমর্থক ছিলেন। তারা ছাত্র-জনতাকে নির্যাতনকারীদের পক্ষে ছিলেন। আমরা চাই অবিলম্বে ভিসি ও প্রক্টর পদত্যাগ করুক। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চিপ অফ সিকিউরিটিকে পদত্যাগ করতে হবে।
কে