দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ এম. নার্গিস আক্তারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। মিছিলে প্রতিষ্ঠানটির শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
এসময় শিক্ষার্থীরা, ‘দফা এক দাবি এক, অধ্যক্ষের পদত্যাগ’, ‘দফা এক দাবি এক, নার্গিসের পদত্যাগ’, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতিবাজের ঠাঁই নাই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
এদিকে রোববার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলেছে। তবে এদিন কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে কোনো শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেননি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বলছেন, অধ্যক্ষ এম নার্গিস পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবে না।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, কলেজ ও স্কুলের বিভিন্ন খাতে বিভিন্ন সময় দুর্নীতি করে যাচ্ছেন অধ্যক্ষ। পরীক্ষার ফি ও জরিমানা ইত্যাদি কারণ দেখিয়ে আমাদের কাছ থেকে নানা সময়ে দুর্নীতি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। আমরা এমন দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ আমাদের প্রতিষ্ঠানে চাই না। অধ্যক্ষ পদত্যাগ করা না পর্যন্ত আমরা এই বিক্ষোভ চালিয়ে যাব।
এদিকে দুপুর সাড়ে ১২টায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সেনাবাহিনীরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের পাঠানো একটি প্রতিনিধি দল এসে শিক্ষার্থীদেরকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। পরে শিক্ষার্থীদেরকে অধ্যক্ষের বাধ্যতামূলক পদত্যাগের নিশ্চয়তা দিয়ে একটি সম্মতিপত্র সাক্ষর দিয়েছেন জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রতিনিধি দলের প্রধান নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) কানিজ ফাতেমা।
এ বিষয়ে কানিজ ফাতেমা বলেন, অধ্যক্ষ নার্গিসের বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির অভিযোগগুলো ছিল, এই বিষয়ে আমাদের তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। তার দুর্নীতির বিষয়গুলো নিয়ে আগামী ২০ আগস্ট আমরা বোর্ডের সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিবো। এই বিষয়ে আমরা শিক্ষার্থীদেরকে আশ্বস্ত করতে পেরেছি ও তাদেরকে এই বিষয়ে নিশ্চয়তা দিয়ে একটি সম্মতিপত্র আমি দিয়েছি।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুমিল্লা জেলার সমন্বয়ক মুহাম্মাদ রাশেদুল হাসান বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো শুনেছি। এ বিষয়ে আমরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছে খুব শীঘ্রই প্রতিবেদন রিপোর্ট ও সিদ্ধান্ত জানাবেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ এম. নার্গিস আক্তারের প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় বেশ কয়েকটি সংবাদপত্রে প্রতিবেদন উঠে এসেছিল। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অভিভাবকরা অভিযোগপত্র জমা দিলেও জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আরএ