দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চলতি বছরের জানুয়ারিতে টানা পঞ্চম মাসের মতো কমেছে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম। মূলত দুগ্ধজাত পণ্য, চিনি ও মাংসের দামে বড় ধরনের পতনের ফলে এমন নিম্নগতি। উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা খাদ্য আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)।
এফএওর তথ্যমতে, জানুয়ারিতে খাদ্যপণ্যের সামগ্রিক মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। আর বছর ব্যবধানে কমেছে দশমিক ৬ শতাংশ।
জাতিংসংঘের এ সংস্থাটির মতে, ২০২২ সালের মার্চে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাতের ফলে একসময় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল খাদ্যপণ্যের দাম। তবে সেখান থেকে ২২.৭ শতাংশ কমে বর্তমানে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচক জানুয়ারিতে গড়ে ১২৩.৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
প্রধান পণ্যগুলোর মধ্যে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম সবচেয়ে বেশি ৫ শতাংশ কমেছে। এর প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে চিজ ও মাখনের দামের পতন। মাংসের দাম ০.৪ শতাংশ কমেছে, যেখানে শূকরের মাংসের দামের পতন হাঁস-মুরগির মাংসের দামের বৃদ্ধিকে ছাপিয়ে গেছে।
ডিসেম্বরের তুলনায় চিনির দাম ১ শতাংশ কমেছে এবং এক বছর আগের তুলনায় ১৯.২ শতাংশ নিচে রয়েছে। এফএও জানিয়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশাই এর প্রধান কারণ।
এর বিপরীতে, শস্য ও উদ্ভিজ্জ তেলের দাম সামান্য বেড়েছে। এফএওর শস্য মূল্যসূচক ০.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে শক্তিশালী চাহিদার কারণে চালের দাম বেড়েছে, যদিও অন্যান্য প্রধান শস্যের দাম কিছুটা কমেছে। উদ্ভিজ্জ তেলের মূল্যসূচক ২.১ শতাংশ বেড়েছে, যার পেছনে পাম, সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের দাম বৃদ্ধি ভূমিকা রেখেছে, যদিও রেপসিড তেলের দাম কমেছে।
এক পৃথক প্রতিবেদনে এফএও ২০২৫ সালে বৈশ্বিক শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস বাড়িয়ে রেকর্ড ৩.০২৩ বিলিয়ন মেট্রিক টনে উন্নীত করেছে। এর পেছনে উন্নত গমের ফলন ও ভুট্টার ভালো উৎপাদন সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ২০২৫–২৬ মৌসুমে বৈশ্বিক শস্য মজুত বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, যার ফলে মজুত-ব্যবহার অনুপাত ৩১.৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে—যা ২০০১ সালের পর সর্বোচ্চ।
এবি/