দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চট্টগ্রামের পটিয়ায় বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকের অবহেলার কারণে তাঁর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং যথাসময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসায় কোনো অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নবজাতকটি সুস্থ রয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহত প্রসূতির নাম সাদিয়া সুলতানা সেতু (২২)। তিনি পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও ইউনিয়নের ছত্তর মার্কেট এলাকার প্রবাসী জসিম উদ্দিনের স্ত্রী।
স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ৩টার দিকে প্রসববেদনা নিয়ে সাদিয়াকে পটিয়া সদরের শেভরন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন। অস্ত্রোপচারের পর থেকেই তাঁর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
সাদিয়ার স্বজনদের দাবি, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকের অবহেলার কারণেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। রক্তক্ষরণ বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নিয়ে এবং রোগীর অবস্থা সম্পর্কে স্বজনদের সঠিক তথ্য না জানিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সময়ক্ষেপণ করেছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
পরে সাদিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাত ৮টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে তাঁর নবজাতক সন্তান বর্তমানে সুস্থ রয়েছে।
নিহতের ভাই আরিফুল ইসলাম বলেন, সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় সাদিয়াকে পটিয়া শেভরন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকের অবহেলা ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পটিয়া শেভরন হাসপাতালের চিকিৎসক মিনি বড়ুয়া বলেন, চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল না। সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় রক্তক্ষরণ হওয়া স্বাভাবিক। অস্ত্রোপচারের পর পটিয়ায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসুবিধা না থাকায় প্রসূতিকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, প্রসূতির মৃত্যুর বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএস/