দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাচায় ঝুলছে থোকা থোকা গাঢ় সবুজ রঙের তরমুজ। পুরো খেতজুড়ে নয়নাভিরাম সবুজের সমারোহ আর কৃষকের মুখে তৃপ্তির হাসি। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে থাইল্যান্ডের উচ্চফলনশীল ‘কানিয়া’ জাতের তরমুজ চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন কৃষক হাসিবুর রহমান।
অপ্রচলিত এ জাতের তরমুজ চাষে অল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় এলাকায় রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। গত তিন বছর ধরে নিজ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে থাই ‘কানিয়া’ জাতের তরমুজ চাষ করে আসছেন হাসিবুর রহমান। অনুকূল আবহাওয়া আর সঠিক পরিচর্যায় প্রতি মৌসুমেই বাম্পার ফলন পাচ্ছেন তিনি।

কৃষক হাসিবুর রহমান জানান, দেশীয় সাধারণ তরমুজের তুলনায় এই থাই জাতের তরমুজে রোগবালাই ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ অনেক কম হয়। মালচিং পেপার ব্যবহার করে মাচায় চাষ করায় মাটির আর্দ্রতা যেমন বজায় থাকে, তেমনি আগাছাও জন্মায় না। ফলে উৎপাদন খরচ অনেকটাই কমে যায়। তাছাড়া মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যেই এ তরমুজ পরিপক্ব হয়ে বাজারজাত করার উপযোগী হয়।
তিনি আরও জানান, কানিয়া জাতের তরমুজ দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, খেতেও অত্যন্ত রসালো ও সুমিষ্ট। ফলে স্থানীয় বাজারে এর প্রচুর চাহিদা তৈরি হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় অল্প সময়েই এটি একটি লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে। হাসিবুরের এই কৃষি উদ্যোগে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন তাঁর স্ত্রীও।

হাসিবুরের এমন চোখজুড়ানো সাফল্য দেখে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে সাধারণ মানুষ ও কৃষকেরা তার খেত দেখতে আসছেন। তার সফলতা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার অনেকেই এখন বাণিজ্যিকভাবে এ জাতের তরমুজ চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্থানীয় কৃষকদের মতে, প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ ও স্বল্প সুদে কৃষিঋণ দেওয়া হলে এই অঞ্চলে কানিয়া তরমুজের চাষ দ্রুত সম্প্রসারিত হবে।
মাঠপর্যায়ে সার্বিক তদারকি ও নিয়মিত দিকনির্দেশনা দেওয়ার কথা জানিয়ে কামারখন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসাইন বলেন, "কৃষক হাসিবুর রহমানের কানিয়া জাতের তরমুজ চাষের উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং আধুনিক কৃষির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি অত্যন্ত যত্ন সহকারে মালচিং ও মাচা পদ্ধতিতে চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাঁকে সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
কেএম