দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাগুরার মহম্মদপুরে কৃষকদের উৎপাদিত পেঁয়াজ দীর্ঘসময় সংরক্ষণ করে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণ শুরু হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এ মেশিন বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইশরাত জাহান শিলু স্বাগত বক্তব্যে পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ারফ্লো মেশিন ব্যবহারের প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক দিক তুলে ধরেন।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মহম্মদপুর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের জন্য মোট ১৫০টি এয়ারফ্লো মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ২০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি ১৩০টি মেশিনও বিতরণ করা হবে।
প্রতিটি এয়ারফ্লো মেশিনের জন্য সরকারি বরাদ্দ ২৮ হাজার ১০০ টাকা। এর মধ্যে মেশিন কেনার জন্য ২১ হাজার টাকা এবং সংরক্ষণাগারের মেঝে ও দেয়াল নির্মাণের জন্য কৃষককে ৭ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইশরাত জাহান শিলু বলেন, দেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ ৮৬ হাজার হেক্টর জমিতে ৪২ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়। বিপরীতে দেশের চাহিদা প্রায় ৩৫ থেকে ৩৬ লাখ টন। উৎপাদনের পর কৃষকরা পেঁয়াজ দীর্ঘসময় সংরক্ষণ করতে না পারায় অনেক সময় বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করেন। পরে ঘাটতি মেটাতে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়, যার প্রভাব বাজারদরের ওপর পড়ে।
তিনি বলেন, কৃষকদের উৎপাদিত পেঁয়াজ সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে তারা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার পাশাপাশি বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যেই সরকার এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে।
বিনামূল্যে মেশিন পাওয়ায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে সন্তোষ দেখা গেছে। তাঁদের আশা, এ প্রযুক্তির মাধ্যমে পেঁয়াজ দীর্ঘসময় সংরক্ষণ করে উপযুক্ত সময়ে বাজারজাত করা সম্ভব হবে।
এমএস/