দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় চাপ বেড়েছে চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সময় ২৭ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চলতি বছরে এ হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২০ জনে।

হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ায় ডেঙ্গু কর্নারের পাশাপাশি সাধারণ ওয়ার্ডেও আলাদা শয্যার ব্যবস্থা করতে হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সদেরও অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মো. মাহবুব হাসান বলেন, ‘আজ ৫৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গত মাসের তুলনায় এ মাসে ক্রমাগত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ক্রিটিক্যাল রোগীদের রাজশাহীতে রেফার্ড করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সামনে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আমাদের কাছে এসব রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ-সরঞ্জাম আছে। আশা করছি কোনো সমস্যা হবে না।’
ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘বর্তমানে জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এই রোগ প্রতিরোধে আমরা নিয়মিত কাজ করছি। আক্রান্তদের জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্য মাইকিং হচ্ছে। সাধারণ মানুষ সচেতন হলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমতে পারে।’
এদিকে শহরে মশার উপদ্রব বাড়ায় মশা নিয়ন্ত্রণে পৌরসভার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, মশার উপদ্রব এখন মৌসুমি সমস্যা নয়, বরং বছরজুড়ে নাগরিক দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। দিনের বেলায় এডিস মশা এবং সন্ধ্যার পর কিউলেক্স মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন তাঁরা।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা এবং সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে মশার প্রজননস্থল তৈরি হচ্ছে। মশারি ও কয়েল ব্যবহার করেও মশার উপদ্রব থেকে পুরোপুরি রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তাঁরা। তাঁদের দাবি, এডিস মশার বিস্তার ঠেকাতে পৌরসভার কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে—এ বিষয়ে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
তবে পৌরসভার কর্মকর্তাদের দাবি, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মশা নিধন, লার্ভা ধ্বংস এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন অর রশীদ বলেন, ‘আমাদের যে নিয়মিত কার্যক্রম, সেগুলো চালু আছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে মাইকিং এবং মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ফগিং, লার্ভিসাইডিং—এই কাজগুলো চলছে।’
এমএম/