দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাগুরা সদর উপজেলার বগিয়া ও কছুন্দি ইউনিয়নের আট গ্রামের বাসিন্দারা মধুমতি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও গ্রামের সড়ক দিয়ে বালুবাহী ভারি যান চলাচল বন্ধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বাগবাড়িয়া এলাকায় সড়কে খুঁটি পুঁতে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে বালুবাহী যান চলাচল বন্ধ করে দেন তারা।
গ্রামবাসীর দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধে জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। এমনকি সেনাক্যাম্পেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। এরপরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা নিজেরাই সড়ক বন্ধ করে প্রতিবাদে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বগিয়া ও কছুন্দি ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মধুমতি নদীর চর থেকে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। পরে সেই বালু ভারি ট্রাকে করে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে নদী ও পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি গ্রামের পাকা সড়কগুলোও দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে বালু উত্তোলন ও গ্রামের সরু সড়ক দিয়ে ভারি ট্রাক চলাচল করছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও তারা প্রতিকার পাননি। ফলে বাধ্য হয়ে সড়কে খুঁটি ও গাছের গুঁড়ি ফেলে বালুবাহী যান চলাচল বন্ধ করেছেন।
গ্রামবাসীর ভাষ্য, বালুবাহী ভারি ট্রাক চলাচলের কারণে মাত্র ছয় মাস আগে নির্মিত একটি সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। অতিরিক্ত ভারি যান চলাচলের কারণে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সড়কগুলো বালুবাহী ভারি যান চলাচলের কারণে দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। এতে একদিকে সরকারের অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে দুর্ভোগ বাড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, বালুবাহী ভারি ট্রাক চলাচলের কারণে বগিয়া ও কছুন্দি ইউনিয়নের চারটি সড়কের প্রায় ১৪ কিলোমিটার পাকা সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ও কোথাও কোথাও ধসে গেছে। এসব সড়কের কয়েকটি অংশ বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও বলেন, ভারি যানবাহন চলাচলের সময় সড়ক থেকে ব্যাপক ধুলাবালি উড়ে আশপাশের বসতবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ওপর পড়ছে। এতে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে বালুবাহী যান চলাচল করায় এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
সরু গ্রামীণ সড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে ভারি বালুবাহী ট্রাক চলাচল করায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
গ্রামবাসীর দাবি, মধুমতি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের পাশাপাশি বালুবাহী ভারি যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার এবং অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন। কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কার স্বার্থে এই কার্যক্রম চলছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
এদিকে এ বিষয়ে বালু ব্যবসায়ী বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
/অ