দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিস্ফোরক আইনের মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদল নেতাদের জামিন শুনানির সময় আদালতে হট্টগোল ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতির মধ্যে এজলাস ছেড়ে খাস কামরায় চলে যান বিচারক। পরে আদালত ভবন ছেড়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চলে যান তিনি।
রোববার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যুগ্ম জেলা জজ মো. উজ্জ্বল মাহমুদের আদালতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিকেল পর্যন্ত আদালত চত্বরে অস্থিরতা বিরাজ করে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
আদালত সংশ্লিষ্ট ও প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীরা জানান, ২০২৩ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় চার আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিন শুনানির সময় আদালতে বিদ্যুৎ ছিল না। বিদ্যুৎ না থাকায় আদালতের আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবাই কষ্টে আছেন বলে মন্তব্য করেন বিচারক। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। পরে বিচারককে নিয়ে অপ্রীতিকর মন্তব্য করে এজলাস কক্ষে বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে বিচারক এজলাস ছেড়ে খাস কামরায় চলে যান।
পরে একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামির জামিন আবেদন নিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী বিচারকের খাস কামরায় যান। তবে এজলাস থেকে নেমে যাওয়ায় বিচারক তাঁকে পরদিন জামিন আবেদন নিয়ে আসতে বলেন। এরপর স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এজলাস কক্ষের জানালা ও বিচারকের খাস কামরার দরজা ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম টিপু বলেন, মামলায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিবসহ চার আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। শুনানির সময় আদালতে বিদ্যুৎ না থাকায় বিচারক এ নিয়ে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যকে সরকারি বিরোধী মন্তব্য হিসেবে ধরে নিয়ে জামিন পাওয়া নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। পরে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। তবে বিচারক এজলাস ছেড়ে যাওয়ায় একই মামলায় গ্রেপ্তার যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন তুফানের জামিন আবেদন শুনানি হয়নি।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব বাবর আলী রুমন বলেন, তাঁরা আগে থেকেই ওই মামলায় জামিনে ছিলেন। হাজিরা-সংক্রান্ত বিষয়ে আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করা হয়। তাঁর দাবি, জামিন শুনানির সময় বিচারক বিদ্যুৎ না থাকার প্রসঙ্গে বর্তমান সরকারের সমালোচনা করেন। এ সময় তাঁরা প্রতিবাদ জানান।
বাবর আলী রুমন আরও বলেন, তাঁদের জামিন মঞ্জুর হলেও একই মামলায় গ্রেপ্তার যুবদল নেতা তুফানের জামিন না হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে তাঁরা বিক্ষোভ করেন এবং বিচারকের প্রত্যাহারের দাবি জানান।
তবে আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিচারকের কোনো মন্তব্য নিয়ে আপত্তি থাকলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো যেত। কিন্তু আদালত কক্ষে ভাঙচুরের ঘটনা ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় বিচার বিভাগের নিরাপত্তা ও মানুষের আস্থা প্রশ্নের মুখে পড়ে।
এমএস/