দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। চলতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলার ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১ হাজার ৩২৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে কীটতাত্ত্বিক জরিপে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার ৩৬ শতাংশ বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ এই ঘনত্বকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে ১ হাজার ৩২৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালটিতে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কোনো তথ্য নেই। তবে গুরুতর অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ৮১ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে রেফার করা রোগীদের মধ্যে মোট কতজনের মৃত্যু হয়েছে, সে তথ্য স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে নেই।
জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য হাসপাতালে ৫০টি শয্যা নির্ধারিত রয়েছে। রোববার সেখানে ৫৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর আগের দিন ভর্তি ছিলেন ৭৮ জন।
তিনি বলেন, রোগীর চাপ সামলাতে হাসপাতালটিতে অতিরিক্ত জনবল দেওয়া হয়নি। ফলে সাধারণ মেডিসিন ওয়ার্ডে এমনকি মেঝেতেও জায়গা করে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। কোনো রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।
এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের কীটতাত্ত্বিক জরিপে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার ১৫০টি বাড়ির মধ্যে ৫৪টিতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অর্থাৎ ৩৬ শতাংশ বাড়িতে এডিসের প্রজননস্থল পাওয়া গেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত জরিপসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এই ৩৬ ব্রুটো ইনডেক্সকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শহরের মসজিদপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, নিউ ইসলামপুর, উদয় সংঘের মোড় ও চরজোতপ্রতাপসহ কয়েকটি এলাকায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় নালা-নর্দমা, ড্রেন ও জলাবদ্ধ স্থান নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় সেগুলো মশার প্রজননস্থলে পরিণত হয়েছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে ওষুধ ছিটানো হলেও তা নিয়মিত নয় বলে অভিযোগ তাঁদের।
মসজিদপাড়ার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, দিন দিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তাঁর পরিচিতজনদের অনেকেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। পৌরসভার কর্মীদের মাঝে মাঝে ওষুধ ছিটাতে দেখা গেলেও কয়েক দিন পর আবার মশার উপদ্রব বেড়ে যায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন অর রশীদ বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জমে থাকা পানি অপসারণ, লার্ভার উৎস ধ্বংস ও ওষুধ ছিটানোর কাজ নিয়মিত চলছে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. এ. কে. এম. শাহাব উদ্দীন বলেন, কীটতাত্ত্বিক জরিপে পৌর এলাকার ৩৬ শতাংশ বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি এমন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম চলছে। পৌর এলাকায় এ কার্যক্রম তদারকির জন্য আটটি দল গঠন করা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু ফগিংয়ের ওপর নির্ভর না করে এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করা এবং নিয়মিত লার্ভা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নাগরিকদেরও বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
যে আই