দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুর সদর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে সংগঠনের কাছে এখনো কোনো লিখিত পদত্যাগপত্র জমা পড়েনি বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মহিপুর সদর ইউনিয়নের নিজামপুর ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান কিয়াম গাজী মঙ্গলবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দলীয় পদ ও সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। পরে তার ওই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়।
ফেসবুক পোস্টে খলিলুর রহমান কিয়াম গাজী দাবি করেন, দীর্ঘদিন সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি ন্যায়, ইনসাফ ও নৈতিক মূল্যবোধের পক্ষে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলের কিছু কেন্দ্রীয় ও উচ্চপর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তার ব্যক্তিগত আদর্শ ও বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তিনি সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি আরও লেখেন, ইচ্ছাকৃতভাবে তার বিবৃতিতে ‘ইসলাম’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। তার ভাষ্য, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নামের সঙ্গে ইসলাম যুক্ত থাকলেই তা ইসলামের প্রকৃত আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে না; মানুষের পরিচয় তার কর্ম ও চরিত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
পোস্টের শেষাংশে তিনি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোনো বক্তব্য বা আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান এবং সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
এ বিষয়ে মহিপুর সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির তোফাজ্জল হোসেন সিপাহি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর খলিলুর রহমানের সঙ্গে আমাদের পরিচয় হয়। তিনি দুই-তিন মাস সংগঠনের কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। পরে তিনি আর কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেননি এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখেননি।’
তিনি আরও বলেন, খলিলুর রহমানের ব্যক্তিগত জমিজমা-সংক্রান্ত একটি বিরোধ এবং প্রায় তিন লাখ টাকা পাওনা আদায় নিয়ে কিছু বিষয় ছিল। এসব বিষয়ে সংগঠন কোনো দায়িত্ব না নেওয়ায় তিনি ধীরে ধীরে সংগঠন থেকে দূরে সরে যান বলে তাদের ধারণা।
তোফাজ্জল হোসেন সিপাহি জানান, খলিলুর রহমান এখন পর্যন্ত সংগঠনের কাছে কোনো লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেননি। বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বশীল নেতারা আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
ফেসবুকে দেওয়া পদত্যাগের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মহিপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
যে আই