দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে নয় দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ পুরো কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে দলটির কেন্দ্রীয় সচিবালয় ও নির্বাচন পরিচালনা-সংক্রান্ত প্রতিনিধিদল এসব দাবি তুলে ধরে।
বৈঠক শেষে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছে। এসব বিষয়ে কমিশনের কাছে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বৈঠকে বেশ কয়েকটি বিষয়ে কমিশনের অসহায়ত্বের চিত্র তাদের সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশন কোনো বিশেষ দলীয় সরকারের চাপের মুখে কাজ করছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। একই সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা ও নাগরিক সমাজের পর্যালোচনা বিবেচনায় নিয়ে কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
জামায়াতের অন্যতম দাবি, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা-সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত বাতিল করা। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকরা জাতীয় ও স্থানীয় উভয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ভোটাধিকার প্রয়োগে অংশ নিয়ে আসছেন। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও শিক্ষকরা প্রার্থী হয়েছেন।
শুধু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকে বৈষম্যমূলক বলে মনে করছে জামায়াত। দলটির নেতাদের দাবি, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নাগরিকদের সমতা ও বৈষম্যহীনতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় বিষয়টি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে দলটি।
যেসব রাজনৈতিক দলের রাজনীতি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, সেসব দলের পদ-পদবিধারী নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে জামায়াত। তবে শুধু কোনো দলের সাধারণ সমর্থক হওয়ার কারণে কাউকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার দাবি জানায়নি দলটি।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে শামসুল আলমের নিয়োগ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে জামায়াত। গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ওই কর্মকর্তা সরাসরি বিএনপির নির্বাচনবিষয়ক উপকমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এ ধরনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা কোনো ব্যক্তির নিয়োগ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসক নিয়োগ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে জামায়াত। উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তুলে দলটি বলেছে, এসব নিয়োগ আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক সুবিধা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
দলটির দাবি, সরকারি অর্থ, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বরাদ্দ এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে প্রশাসকরা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পেতে পারেন। তাই এসব পদে নিয়োজিত প্রশাসকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে জামায়াত। তফসিল ঘোষণার পর কোনো প্রশাসক পদত্যাগ করলেও তাকে আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যক্তিদের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণ বন্ধে কঠোর আচরণবিধি প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে দলটি। নির্বাচনি প্রতিযোগিতায় সমতা নিশ্চিত করতে আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে জামায়াত।
বৈঠক শেষে গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের কিছু দাবির সঙ্গে একমত হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে অসহায়ত্বের কথাও জানানো হয়েছে। জনমত, নাগরিক সমাজের পর্যবেক্ষণ ও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে না বলেও জানান গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত না হওয়ায় দলের আগ্রহী ব্যক্তিরা নিজ নিজ এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত ১১ দলীয় ঐক্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলেও জানান তিনি। স্থানীয় নির্বাচনে দলগুলো নিজেদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অংশ নিতে পারবে।
এমএম/