দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নরসিংদীতে এইচএসসি পরীক্ষার দুটি কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এমসিকিউ অংশে এবং সদর উপজেলার নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে লিখিত অংশে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা ছয় শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এক কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
জানা গেছে, মনোহরদীর খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে লিখিত পরীক্ষা শেষে ৩০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার সময় মনোহরদী সরকারি কলেজের দুটি কক্ষের প্রায় শতাধিক পরীক্ষার্থীকে নির্ধারিত প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে বাংলা প্রথম পত্রের ভিন্ন সেটের (কোড-১২১) প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়।
পরীক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষাকক্ষে তারা বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে গিয়ে উত্তর মিলানোর সময় ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি তাদের নজরে আসে। এরপর ঘটনাটি জানাজানি হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
মনোহরদী সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থী সাকিবা বলেন, ‘পরীক্ষার হলে আমরা বুঝতেই পারিনি যে ভুল প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে। বাড়িতে এসে উত্তর মিলিয়ে দেখি আমাদের ভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এখন ভালো ফলাফল নিয়ে আমরা চিন্তিত।’
খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নাজিম উদ্দীনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অবস্থান করছেন জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।
মনোহরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল মান্নান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি জানতে পেরেছি। পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের অবহেলার কারণেই এমনটি ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টির সমাধানে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।’
এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আরেফা সুলতানা, প্রভাষক সামছুল আলম, প্রভাষক মাহমুদুর রহমান এবং প্রভাষক মো. আক্রাম হোসেনকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম. এ. মুহাইমিন আল জিহান বলেন, ‘প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছানোর আগে যেসব ধাপ রয়েছে, সে বিবেচনায় এক পরীক্ষার প্রশ্ন অন্য পরীক্ষায় চলে আসা প্রায় অসম্ভব। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের ভুলের কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দায়িত্বে থাকা চার শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্র সচিব ও খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নাজিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পরীক্ষার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।’
এদিকে নরসিংদী সদর উপজেলার নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২০১ নম্বর কক্ষে কিছু পরীক্ষার্থীকে লিখিত অংশে ভুলবশত ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। পরীক্ষা শুরুর ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে দায়িত্বরত শিক্ষকদের জানালে ভুল প্রশ্নপত্র ফিরিয়ে নিয়ে সঠিক প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। পরে অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব প্রফেসর নাছিমা আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘২০১ নম্বর কক্ষে কিছু শিক্ষার্থীকে ভুলবশত পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছিল। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি জানতে পেরে নতুন প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আমরা বিব্রত।’
তিনি জানান, প্রশ্নপত্র আনা-নেওয়াসহ সার্বিক দায়িত্বে থাকা নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অলক কুমার পাল এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত কুমার সাহাকে পরীক্ষা কমিটির দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে বলেও জানান তিনি।
নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. রাসেদুজ্জামানকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএম