দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চলতি মৌসুমে টানা বৃষ্টির কারণে কুড়িগ্রামে পাটক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অতিবৃষ্টির ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাটগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও গাছ খর্বাকৃতির হয়ে পড়েছে, আবার অনেক ক্ষেতের পাটগাছের পাতা হলুদ ও লালচে হয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তারা বিভিন্ন ধরনের সার ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার করছেন।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, পাট জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। অতিবৃষ্টির কারণে অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় গাছের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে নিচু জমির পাটক্ষেত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বয়স্ক পাতায় হলুদভাব দেখা দিলে বিঘাপ্রতি ৮ কেজি ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মেনকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে গাছ কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৬ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ১৫ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। অবশিষ্ট জমিতে কৃষকরা আমন চাষ করবেন।
নাগেশ্বরী উপজেলার বালানিপাড়া এলাকার পাটচাষি মুকুল মিয়া বলেন, ‘অতি বৃষ্টির কারণে আমার জমির পাট ভালো হয়নি। গাছগুলো খর্বাকৃতির হয়ে গেছে, অনেক গাছ লালচেও হয়েছে। জমিতে প্রচুর আগাছা হয়েছে। এখন ওষুধ এনে স্প্রে করছি।’
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকার কৃষক ইউনুস আলী বলেন, ‘একই জমিতে কোথাও পাটগাছ ছোট, আবার কোথাও বড় হয়েছে। গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঠিকমতো হচ্ছে না।’
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক তানভীর আহমেদ সরকার বলেন, ‘পাট বর্ষাকালীন ফসল হওয়ায় সাধারণত সেচের প্রয়োজন হয় না। তবে অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে পাটের ক্ষতি হয়। বর্তমানে জমিতে পানি না থাকলে অনুমোদিত ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি বিঘাপ্রতি ৫ কেজি পটাশ সার প্রয়োগ করলে গাছের বৃদ্ধি ভালো হবে।’
এমএস/