দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার মদাতী ইউনিয়নে চুরির মাইক কেনার অপবাদে মফিজুল নামে এক ব্যক্তিকে স্ত্রী ও সন্তানদের সামনে মারধরের ঘটনায় স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করেছে আদালত। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি)। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তাকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ৫ জুন কালীগঞ্জ আমলি আদালত-৫-এর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাজীব মিয়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০(১)(সি) ধারায় অপরাধ আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন। আদালত আগামী ১৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারণ করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ৪ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও আদালতের নজরে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, প্রকাশ্যে বহু মানুষের সামনে মফিজুল নামে এক ব্যক্তিকে লাঠি দিয়ে মারধর করছেন মদাতী ইউনিয়নের সদস্য (মেম্বার) শাহজাদা সেলিম। এ সময় ঘটনাস্থলে গ্রাম পুলিশের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
আদেশে বিচারক উল্লেখ করেন, প্রকাশ্য দিবালোকে স্ত্রী-সন্তান ও শত শত মানুষের সামনে এ ধরনের লাঠিপেটা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল এবং মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কারও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার নেই।
আদালত বলেন, ঘটনাটি দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৫, ৩৮৫ ও ১১৪ ধারা এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২-এর ৪ ধারার আওতায় গুরুতর ও আমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে প্রতীয়মান হয়।
বিচারক আরও পর্যবেক্ষণ করেন, গ্রাম পুলিশের উপস্থিতি সত্ত্বেও মারধর বন্ধ না হওয়ায় মদাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ কোনো প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।
আদালত কালীগঞ্জ থানার ওসিকে ভুক্তভোগী, সাক্ষী ও সম্ভাব্য ইন্ধনদাতাদের পরিচয় শনাক্ত করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করতে বলা হয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করে তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যেহেতু অভিযুক্তরা স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি, তাই তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতের আদেশের অনুলিপি লালমনিরহাটের উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) বরাবর পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ পেয়েছি। নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’
এমএস/