দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাইবান্ধার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে সুন্দরগঞ্জ, সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রোববার ও সোমবার কয়েক দফায় আঘাত হানা ঝড়ে পুরো সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। এছাড়া সদর ও ফুলছড়ির চরাঞ্চলে চার শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
রোববার (১৭ মে) গভীর রাতে প্রথম দফায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় আঘাত হানে কালবৈশাখী ঝড়। রাত আড়াইটা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডবে পৌরশহরসহ পুরো উপজেলা লন্ডভন্ড হয়ে যায়।
ঝড়ে সুন্দরগঞ্জ পৌরশহরের মীরগঞ্জ বাজারে একটি বিশাল বটগাছ হেলে পড়ে ১০ থেকে ১২টি দোকানঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া আরেকটি পুরোনো বটগাছ উপড়ে পড়ে সুন্দরগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ও চারটি শ্রেণিকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপজেলার বিভিন্ন সড়কে গাছ উপড়ে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়।
সদর উপজেলার মোল্লার চর, জিগাবাড়ির চর এবং ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়ন ও পুরাতন ফুলছড়ি এলাকায় উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে পাকাধান ও পাটখেত তলিয়ে গিয়ে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। পাশাপাশি বহু বসতবাড়ি আংশিক ও সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা। সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, ঝড়ে ১২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে, ৬টি খুঁটি হেলে পড়েছে এবং প্রায় ৩০টি স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে গেছে। এছাড়া ৬টি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে। ফলে পুরো উপজেলা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. আব্দুল বারী জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সময় লাগবে। পল্লী বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন বিভাগের ২১টি টিম মাঠে কাজ করছে।
এদিকে সোমবার (১৮ মে) ভোরে গাইবান্ধা সদর ও ফুলছড়ির চরাঞ্চলে আবারও আকস্মিক ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। সদর উপজেলার কামারজানী ইউনিয়নের খারজানী চর এবং ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের বুলবুলির চর ও চর চৌমোহনী এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
স্থানীয়দের দাবি, এই ঝড়ে চার শতাধিক ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ বহু পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে।
খারজানী চরের বাসিন্দা কুলছুম বেগম বলেন, ‘ঝড়ে ঘরবাড়ি সব শেষ হয়ে গেছে। ঘরে থাকা ৪০ হাজার টাকা ও কাপড়চোপড়ও উড়ে গেছে। এখন মাথা গোঁজার কোনো ঠাঁই নেই।’
একই এলাকার জবা বেগম বলেন, ‘ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। রান্না করে খাওয়ার মতো অবস্থাও নেই।’
ঝড়ে ঘরধসে কয়েকজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে খারজানী চরের তৈবন বেগম বাম চোখে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। তবে যোগাযোগ সংকট ও নৌকার অভাবে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে শুকনো খাবার, চিকিৎসাসেবা ও ঘর নির্মাণ সামগ্রী প্রয়োজন। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এমএস/