দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মানেই সাধারণত আনন্দ-উৎসব, কেক কাটা আর আনুষ্ঠানিকতা। কিন্তু সেই চেনা ধারার বাইরে গিয়ে এক ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগে দেড় যুগ পূর্তি উদযাপন করল দেশ টিভি। আর এটি শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, হয়ে উঠেছে ভালোবাসা, সহমর্মিতা আর দায়িত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
সাতক্ষীরার উপকূল ঘেঁষা প্রাকৃতিক বিস্ময় সুন্দরবন যেখানে জীবনের প্রতিটি দিনই সংগ্রামের, সেখানেই আয়োজন করা হয় এই বিশেষ অনুষ্ঠান। প্রকৃতির কঠোর বাস্তবতায় দিন কাটানো বাঘ বিধবা নারীদের সঙ্গে নিয়ে উদযাপিত হয় দেশ টিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ফলে আনন্দের এই আয়োজন পায় এক গভীর মানবিক মাত্রা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দেশ ফোরামের শ্যামনগর উপজেলা সমন্বয়কারী ও সুন্দরবন গবেষক পীযূষ বাউলিয়া পিন্টু। তিনি বলেন, ‘মানুষের সমাজ জীবনে গণমাধ্যম একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক গণমাধ্যমই মূলধারার বাইরে থাকা মানুষের কথা তুলে ধরতে পিছিয়ে থাকে। সুন্দরবনের বাঘ বিধবাদের জীবনসংগ্রাম সেই অবহেলিত গল্পগুলোর একটি। সেই জায়গা থেকেই দেশ টিভি ব্যতিক্রমী ভূমিকা পালন করে আসছে।’
এর আগেও দেশ টিভির দর্শক সংগঠন নানা মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে। কখনো অনাথ শিশুদের নিয়ে, কখনো প্রতিবন্ধী শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে। আর এবারের আয়োজনটি ছিল আরও হৃদয়স্পর্শী সুন্দরবনের বাঘ বিধবা নারীদের নিয়ে, যারা প্রতিনিয়ত হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছিল এক আবেগঘন মুহূর্ত। সমাজের অনগ্রসর ও বঞ্চিত এই নারীদের হাতেই তুলে দেওয়া হয় কেক কাটার দায়িত্ব। নতুন লোগো সম্বলিত সেই কেক কাটার দৃশ্য যেন প্রতীক হয়ে ওঠে সমাজের মূল স্রোতে তাদের অংশগ্রহণের।
এরপর তাদের মাঝে বিতরণ করা হয় বস্ত্র, খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপহার। উপহার পেয়ে অনেকেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের অবহেলা আর কষ্টের জীবনে এমন সম্মান আর ভালোবাসা তাদের কাছে যেন এক বিরল প্রাপ্তি।

বাঘ বিধবা সোনামণি চোখ ভেজা কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের কথা কেউ ভাবে না। আজকে মনে হচ্ছে, আমরা একা না।’
বাঘ বিধবা তৈয়বা বিবি বলেন, ‘এই ভালোবাসা আমরা কোনোদিন ভুলবো না। আমাদের দুঃখ কেউ বুঝেছে, এটাই অনেক।’
বাঘ বিধবা মুনজিলা খাতুন বলেন, ‘আজকে আমরা সম্মান পেয়েছি, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া।’
শুভেচ্ছা জানাতে আসা ফেইথ ইন অ্যাকশনের কর্মকর্তা পরিতোষ মন্ডল বলেন, ‘এই ব্যতিক্রমী আয়োজন প্রমাণ করে, একটি গণমাধ্যম শুধু খবর পরিবেশন করেই দায়িত্ব শেষ করে না; বরং মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, তাদের কণ্ঠস্বর হয়ে, তাদের জীবনে আলো ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়েই প্রকৃত অর্থে পরিপূর্ণতা পায়।’
লিডার্সের কর্মসূচি পরিচালক এবিএম জাকারিয়া বলেন, ‘বাঘ বিধবা নারীদের মাঝে বিতরণ করা হয় বস্ত্র, খাদ্যসামগ্রীসহ শুভদিনের বিভিন্ন উপহার। উপহার পেয়ে অনেকেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। বাঘের মুখে পড়ে জীবন হারানো স্বামীদের মৃত্যুর পর তারা পুরোপুরি সমাজ বিচিছন্ন ছিল। আজ সম্মান ও ভালোবাসা পেয়ে তারা আপ্লুত। এমন সম্মান খুব কমই পেয়েছেন এসব সুন্দরবনের বনজীবী বাঘ বিধবা নারীরা।’
বাঘ বিধবা পারভীন আক্তার বলেন, ‘এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশ টিভি আবারও প্রমাণ করলো একটি গণমাধ্যম মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জীবনে আশার আলো জ্বালাতে পারে। আর সুন্দরবনের বাঘ বিধবাদের সঙ্গে এই উদযাপন যেন বলে দেয় উৎসবের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া যায়।’
অনুষ্ঠানে কবি, সাংবাদিক, উন্নয়ন ও সমাজকর্মী, সাংবাদিকসহ অনেকেই উপস্থিত হন।
দেশ টিভির স্টাফ রিপোর্টার শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রথম আয়োজন হতভাগ্য বাঘ বিধবাদের সঙ্গে করতে পেরে আমরা গর্বিত। অতিদ্রুত শহরের সামাজিক, প্রশাসনিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের সঙ্গে নিয়ে জেলা সদরে আরও বৃহত্তর পরিসরে আয়োজন করা হবে।
/অ