দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দক্ষিণাঞ্চলের নদীবিধৌত জেলা পিরোজপুরে পর্যাপ্ত পার্ক বা আধুনিক বিনোদনকেন্দ্রের অভাবে দুটি সেতুই হয়ে উঠেছে জেলার প্রধান অবসরযাপনের স্থান। সদর উপজেলার বলেশ্বর সেতু এবং অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু, যা স্থানীয়ভাবে বেকুটিয়া সেতু নামে পরিচিত, এখন জেলার মানুষের বিনোদনের মূল কেন্দ্র।
ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েকদিন বিকেল হলেই পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও তরুণ-তরুণীদের ভিড়ে এসব সেতুতে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। কেউ নদীর হাওয়া উপভোগ করতে, কেউ সূর্যাস্ত দেখতে, আবার কেউ সময় কাটাতে এখানে আসেন।
তবে এই বিনোদন মোটেও ঝুঁকিমুক্ত নয়। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এ সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় চলন্ত গাড়ির মাঝেই দর্শনার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে সেলফি তোলা ও আড্ডায় মেতে ওঠেন। ফলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
পিরোজপুর জেলা প্রশাসনের অধীনে ডিসি পার্ক থাকলেও আধুনিক সুবিধার অভাবে সেখানে দর্শনার্থীর উপস্থিতি তুলনামূলক কম। ফলে বিকল্প না থাকায় মানুষ বাধ্য হয় সেতুতেই ভিড় করতে।
দর্শনার্থী হাবিবা আক্তার বলেন, ‘জেলায় শিশুদের জন্য খেলার মাঠ বা পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর মতো নিরাপদ কোনো পরিকল্পিত বিনোদন কেন্দ্র নেই। তাই সবাই ঝুঁকি নিয়েই সেতুতে আসে।’ স্থানীয় রফিকুল ইসলাম জানান, ‘ঘুরতে যাওয়ার মতো আর কোনো জায়গা না থাকায় ছোট বাচ্চাদের নিয়ে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়।’
পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
জেলা প্রশাসক আবু সাইদ জানান, পিরোজপুরে আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র স্থাপনে জেলা প্রশাসন কাজ করছে এবং এ বিষয়ে ইতিমধ্যে ড্রোন জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে একটি পরিকল্পিত ও নিরাপদ বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি জেলার পর্যটন ও অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এমএস/