দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বাসিন্দা আবু হোসেন মো. নাছিম মণ্ডল টানা আড়াই মাস কারাগারে থাকার পর উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও তার পরিবারের শঙ্কা কাটেনি। স্বজনদের আশঙ্কা, কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জেল গেট থেকেই তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
ঈদ সামনে রেখে বাবার ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছে নাছিমের তিন শিশু সন্তান। তাদের মধ্যে এক নবজাতক কন্যা রয়েছে, যার জন্মের পর এখনো বাবার মুখ দেখা হয়নি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের কাজিবাড়ি সন্তোলা গ্রামের বাসিন্দা নাছিমকে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলা শহরের পোস্ট অফিসসংলগ্ন বাসা থেকে পুলিশ আটক করে। পরদিন তাকে গাইবান্ধা আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তবে নাছিমের পরিবারের দাবি, তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্ররোচনায় ভুয়া কমিটির কাগজ তৈরি করে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর গত ৮ মার্চ উচ্চ আদালত নাছিমকে জামিন দেন। কিন্তু জামিনের আদেশের কপি এখনো গাইবান্ধা আদালতে পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা। তাদের আশা, রোববার বা সোমবারের মধ্যে কপি পৌঁছালে জেলা আদালতে জামিনের আবেদন করা হবে।
নাছিমের স্ত্রী রুমা খাতুন বলেন, স্বামী ছাড়া আমার সংসারে কেউ নেই। অনেক কষ্ট করে বাবার বাড়ি থেকে ও ধারদেনা করে টাকা জোগাড় করে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেছি। আদালত জামিন দিলেও ভয় হচ্ছে জেল গেট থেকেই আবার তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
তিনি বলেন, তিনটি ছোট সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে। ঈদের আগে বাচ্চারা বাবার জন্য অপেক্ষা করছে।
নাছিম গ্রেপ্তারের প্রায় এক মাস ১০ দিন পর গত ৭ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা শহরের একটি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রুমা খাতুন কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। চিকিৎসা ও সন্তান জন্মের পুরো সময়টুকু তাকে স্বামী ছাড়াই সামলাতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
নাছিমের বড় ছেলে সাহাদ মণ্ডলের বয়স সাত বছর। সে বলে, বাবাকে অনেক দিন দেখি না। আমি ক্যাডেট মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছি। কয়েকবার জেলে গিয়ে বাবাকে দেখেছি। বাবা বলেছে ঈদের আগে বাড়ি আসবে।
পরিবারের অভিযোগ, একটি ভুয়া কমিটির কাগজে নাছিমকে ছাত্রলীগের উপজেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক দেখিয়ে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাদের দাবি, ২০১০ সালে উপজেলা ছাত্রলীগের কেবল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল; পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হয়নি।
তখন নাছিম এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন বলেও পরিবারের দাবি।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে নাছিমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ট্যাগ সংক্রান্ত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। নাছিমের পরিবার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জেল গেটে পুনরায় গ্রেপ্তার না করার দাবি জানিয়েছে।
জে আই