দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ, তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম এবং পুত্র শাম্মাম জুনাইদ ইফতির বিরুদ্ধে ৬০ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তিনটি আলাদা মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুদকের পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাগুলো দায়ের করা হয়। মামলাগুলো দায়ের করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন ও মো. মনিরুল ইসলাম। প্রাথমিক তদন্ত পরিচালনা করেন পিরোজপুর দুদক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম।
এজাহার অনুযায়ী, মহিউদ্দিন মহারাজের নামে ১২২টি দলিলে জমি, বাড়ি, মার্কেট ও দোকানসহ ২৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ, ব্যাংক সঞ্চয়, ব্যবসায়িক মূলধন, বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও দুটি বিলাসবহুল গাড়ি মিলিয়ে ১৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ এবং ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ১২ কোটি ৩৪ লাখ টাকার পারিবারিক ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। তার মোট উপার্জিত সম্পদ ৫৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা হলেও গ্রহণযোগ্য আয় মাত্র ৩ কোটি ৫১ লাখ টাকার, ফলে ৫১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের প্রমাণ মিলেছে।
উম্মে কুলসুমের নামে ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার স্থাবর ও ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তার গ্রহণযোগ্য আয় দুই কোটি ছয় লাখ টাকার, ফলে ছয় কোটি ৯৮ লাখ টাকার অবৈধ উপার্জনের তথ্য পাওয়া গেছে।
পুত্র শাম্মাম জুনাইদ ইফতির মোট সম্পদ ও ব্যয় মিলিয়ে তিন কোটি ৪৬ লাখ টাকার অর্জন ধরা হয়েছে। যেহেতু সে ছাত্র, তার নিজস্ব আয়ের উৎস নেই। গ্রহণযোগ্য আয় এক কোটি ৫১ লাখ টাকার, ফলে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার অবৈধ অর্জন ধরা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ আছে, পিতা অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ছেলের নামে দেখানোর চেষ্টা করেছেন।
এর আগে, পিরোজপুর এলজিইডি থেকে টেন্ডারের নামে কাজ না করে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মহিউদ্দিন মহারাজের বিরুদ্ধে দুদক আরও আটটি মামলা করেছে, যেগুলো বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
এমএস/