দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার সময় কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম হুসাইনের ওপর হামলার চেষ্টা করেছে যুবদলের একটি দল। তারা আলম হুসাইনকে সভা থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানান। এ আগে তারা একটি মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদে প্রবেশ করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সভা চলছিল। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হুদা, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার দাস, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, উপজেলা জামায়াতের আমীর ডাক্তার রবিউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু।
খবর পেয়ে গাংনী সেনাবাহিনীর একটি টিম ছত্রভঙ্গ করে দেয়। যুবদলের মিছিল প্রবেশের সময় সভা উপস্থিতরা আতঙ্কিত হন।
জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাজমুল হোসেন, যুবদল নেতা সাহিবুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আব্দুল গনি ও ছাত্রদলের নেতা ইমন নেতৃত্বে ১৫–২০ জন মিছিল নিয়ে সভাকক্ষে প্রবেশ করে আলম হুসাইনকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। এর ফলে সভায় উপস্থিতদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে আসাদুজ্জামান বাবলু উপস্থিত সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। আর্মি ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
সূত্র জানিয়েছে, ভিজিএফের চাউলের বরাদ্দকৃত ২৫% অংশ চান ইউপি চেয়ারম্যান আলম হুসাইন। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে যুবদলের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হওয়ায় হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গাংনী পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা বলেন, “একটি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় মিছিল নিয়ে প্রবেশ করে একজন চেয়ারম্যানকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করা ন্যাক্কারজনক। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।” উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, “এ ধরনের ঘটনায় আমি ক্ষমাপ্রার্থী এবং ভবিষ্যতে রাজনীতি ছাড়ার অঙ্গীকার করছি।”
উপজেলা জামায়াতের আমীর মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, “রাজনীতির নামে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কঠোর হস্তে দমন না করলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে না।”
গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার জানান, “আমি হতবাক। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, “যুবদলের এই আচরণ তাদের রাজনৈতিক নেতাদেরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিষয়টির যথাযথ সমাধান না হলে আমরা প্রক্রিয়াগত ব্যবস্থা নেব।”
সভায় উপস্থিত সংসদ সদস্য নাজমুল হুদা বলেন, “এ হামলা শুধু আলম হুসাইনের ওপর নয়, আমাদের সকলের ওপর হয়েছে। যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।”
বিকাল সাড়ে ৪টায় গাংনী উপজেলা জামায়াত একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলকারীরা লাঠিসোটা নিয়ে আসাদুজ্জামান বাবলুর বিরুদ্ধে শ্লোগান দেন এবং এমপির ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানান।
এমএস/