দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক সদস্যের বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশন করছেন আসমা আক্তার (২০) নামে এক যুবতী।
তিনি চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ ফতেপুর গ্রামের বিল্লাল খানের মেয়ে। অভিযুক্ত সেনাসদস্য জাহাঙ্গীর আলম (২২) ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে চাকরি পান জাহাঙ্গীর আলম। চাকরিরত অবস্থায় মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে আসমার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একাধিকবার দেখা-সাক্ষাতের পর তারা গোপনে বিয়ে করেন বলে দাবি আসমার।
পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে আসমা তাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দিয়ে ঘরে তোলার দাবি জানান। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় জাহাঙ্গীর তার কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে জাহাঙ্গীর বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
নিরুপায় হয়ে আসমা কৌশলে স্বামীর গ্রামের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ভূরুঙ্গামারীতে এসে ওঠেন। প্রথমে তাকে বাড়িতে থাকতে দেওয়া হলেও তিন দিন পর জাহাঙ্গীরের খালাসহ পরিবারের সদস্যরা তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয়রা গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তাকে ভূরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। চিকিৎসা শেষে গত ৩ মার্চ তিনি ভূরুঙ্গামারী থানায় নির্যাতনের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার পরপরই থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীরের বাবা শাহ আলী ও মা জাহানারা বেগমকে আটক করে। বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে আটক দু’জনকে কুড়িগ্রাম আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী আসমা আক্তার বলেন, আমি পরিবারের সঙ্গে সব সম্পর্ক ত্যাগ করে স্বামীর স্বীকৃতির আশায় তার বাড়িতে এসেছি। প্রথমে তারা আমাকে মেনে নেয়। কিন্তু তিন দিন পর অমানবিক নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। আমার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, আংটি ও পায়ের নূপুর খুলে নেয়। আমার মোবাইলে থাকা আমাদের ছবি ও ভিডিও ডিলিট করে দেয়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটক দুইজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ওই সেনা সদস্য চাকুরিতে কর্মরত থাকায় তাকে আটক করা যায়নি। এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
জে আই