দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অমলিন অবদান রাখা শরীয়তপুরের বীরাঙ্গনা যোগমায়া মালো শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত সমস্যা ও ক্যানসার রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলার মধ্যপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে তিনি ইহলোকে বিদায় জানান।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যোগমায়া মালো সহ অগণিত বীরাঙ্গনারা অকুতোভয় ত্যাগ স্বীকার করেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মনোহর বাজারের দক্ষিণ মধ্যপাড়ায় তাণ্ডব চালিয়ে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী গৃহবধূ যোগমায়াকে তুলে নিয়ে যায় এবং পাশবিক নির্যাতন চালায়। তার সহ অনেক নারী-পুরুষ গুলি করে হত্যা করা হয়, নারী নির্যাতিত হয় ৩ দিন ৩ রাত ধরে। মুক্তিযুদ্ধের ভয়ংকর সেই মুহূর্ত গুলো পার করে যোগমায়া ফিরে আসেন জীবন্ত সাক্ষী হয়ে। স্বাধীনতা অর্জনের ৪৭ বছর পর ২০১৮ সালে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পান বীরাঙ্গনা হিসেবে।
মনের ক্ষত নিয়ে দীর্ঘদিন কাটিয়ে ওঠার পর সরকারিভাবে গত ১৫ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন তার জন্য পাকা একটি সরকারি ঘর নির্মাণ করেন। সেখানে কিছুদিন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন যোগমায়া মালো।
তার মৃত্যুতে সদর উপজেলা প্রশাসন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সোমবার বিকেলে তার শেষ যাত্রায় গার্ড অব অনার প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলোরা ইয়াসমিন।
ইউএনও বলেন, আমরা মর্মাহত। বীরাঙ্গনা যোগমায়া মালোর অবদান জাতি ভুলবে না। তাকে সসম্মানে বিদায় দেওয়া হয়েছে।
যোগমায়ার মেয়ের জামাই সুভাষ দাড়িয়া জানান, আমার শাশুড়ি দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভুগছিলেন। আজ দুপুর ২টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। সবাই তার জন্য প্রার্থনা করবেন যেন তিনি স্বর্গবাসী হন।
শরীয়তপুর জেলা ও উপজেলাসহ সর্বস্তরের মানুষ বীরাঙ্গনা যোগমায়া মালোর ত্যাগ ও অবদানের স্মৃতিকে চিরদিন হৃদয়ে ধারণ করবে।
জে আই