দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বলিরেখা, ত্বকের দাগ কিংবা চুল পেকে যাওয়া এসবকে আমরা বার্ধক্যের লক্ষণ মনে করি। তবে বিজ্ঞান বলছে, আসল রহস্য লুকিয়ে আছে আমাদের শরীরের জিনের গঠন ও কার্যপ্রণালীতে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জিনে ঘটে যাওয়া পরিবর্তনই শরীরে বার্ধক্যের ছাপ ফেলে। এর ফলেই অল্প বয়সেই দেখা দেয় অকাল বার্ধক্য বা প্রিম্যাচিউর রিঙ্কলস।
আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডো বোল্ডার–এর গবেষকরা বার্ধক্যের জন্য দায়ী ৪০০ জিন চিহ্নিত করার দাবি করেছেন। তারা বলছেন, এই আবিষ্কার চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। এসব জিন কীভাবে কাজ করে, তা নিয়ে আরও গবেষণা হলে বার্ধক্য প্রতিরোধ বা চিকিৎসার নতুন পথ পাওয়া সম্ভব হবে। তাদের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে নেচার জেনেটিক্স জার্নালে।
গবেষকদের মতে, এই জিনগুলোর সক্রিয়তার কারণেই কাউকে অল্প বয়সেই বৃদ্ধ দেখায়, আবার কেউ ৯০ বছর বয়সেও থাকে তুলনামূলক তরুণ। এসব জিন শরীরে বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়া প্রভাবিত করে এবং বয়সজনিত শারীরিক ও মানসিক সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়। ফলে দেখা দেয় ডায়াবেটিস, অ্যালঝাইমার্স, বাত কিংবা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা।
গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, অকাল বার্ধক্যের সঙ্গে জড়িত দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতাগুলোকে চিহ্নিত করে জিনগুলোকে সাতটি ভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষক দলের প্রধান ইসাবেল ফুট জানিয়েছেন, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অকাল বার্ধক্য প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
আমেরিকায় চিকিৎসকেরা বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা পরিমাপের জন্য প্রায় ৩০টি সূচক ব্যবহার করেন। এর মধ্যে রয়েছে হাঁটার গতি, গ্রিপ শক্তি, ওজন তোলার সামর্থ্য, স্নায়বিক সক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি। গবেষণায় দেখা গেছে, ৬৫ বছরে পৌঁছে প্রায় ৪০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক দুর্বলতায় আক্রান্ত হন। আর এর পেছনে দায়ী প্রায় ৪০৮টি জিন। তবে সব জিন একসঙ্গে সক্রিয় হয় না। তাই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী কোনো বৃদ্ধও অ্যালঝাইমার্সে আক্রান্ত হতে পারেন, আবার ডায়াবেটিসে ভোগা কেউ থাকতে পারেন তীক্ষ্ণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী।
মানব শরীরের ক্রোমোজোমে থাকা ডিএনএ-এর টেলোমেয়ার বার্ধক্যের সঙ্গে ছোট হতে থাকে। টেলোমেয়ারের ক্ষয় রোধ করা গেলে বার্ধক্য অনেকটা ঠেকানো সম্ভব। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের আয়ু বাড়ানো এবং অকাল বার্ধক্য রোধ করা যেতে পারে।
এমএস/কে