দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর অবশেষে একটি নতুন ঘর পেলেন শরীয়তপুরের বীরাঙ্গনা যোগমায়া মালো। স্বাধীনতার যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে সর্বস্ব খোয়ানো এই নারীকে শেষ বয়সে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ঘর উপহার দিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে ক্যান্সার আক্রান্ত শয্যাশায়ী এই নারীর সরকারিভাবে চিকিৎসার দাবি স্বজন ও এলাকাবাসীর।
যোগমায়া মালো, তার পরিবার ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২২ মে শরীয়তপুর সদরের মনোহর বাজারের দক্ষিণ মধ্যপাড়ার হিন্দু এলাকায় তাণ্ডব চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। প্রতিটি ঘর থেকে তুলে নেওয়া হয় যুবতী হিন্দু নারীদের। সেদিন সকলের সঙ্গে তুলে নেওয়া হয় নেপাল চন্দ্র মালোর স্ত্রী যোগমায়া মালোকে। তখন ১৫ বছরের কিশোরী গৃহবধূ ছিলেন তিনি। পরে বেশ কয়েকজনকে মধ্যপাড়া এলাকায় গুলি করে হত্যার পর অন্তত ১০০ নারী-পুরুষকে নিয়ে যাওয়া হয় মাদারীপুরের এআর হাওলাদার জুট মিলে।
সেখানে পুরুষদের অনেককেই গুলি করে হত্যা করা হয়। আর নারীদের ৩ রাত আটকে রেখে চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন। সেই নির্যাতন শেষে ছাড়া পেয়ে যোগমায়া মালো ফিরে আসেন স্বামীর কাছে।
স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর ২০১৮ সালে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেছে তার। তবে মনের ক্ষত বয়ে বেড়ানো এই বীরাঙ্গনা নারীর ছিল না থাকার ঘর। বিষয়টি নিয়ে গতবছর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। বিষয়টি মাথায় রেখে এবার বিজয় দিবস উপলক্ষে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) একদিন আগেই তাকে সরকারিভাবে পাকা ঘর করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। তাদের এমন উদ্যোগে খুশি এলাকাবাসী। তবে শেষ বয়সে মাথা গোঁজার ঠাঁই মিললেও বর্তমানে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী বীরাঙ্গনা যোগমায়া মালো। সরকারিভাবে চিকিৎসার দাবি স্বজনদের।
স্থানীয় হাজী মোতালেব মাদবর বলেন, ‘যোগমায়া মালোর সুযোগ-সুবিধা আরও আগেই পাওয়া উচিত ছিল। শেষ বয়সে এসে তিনি একটি ঘর পেলেন, এটাই তার জীবনের সার্থকতা। তবে তিনি এখন অনেক অসুস্থ। ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। আমরা এলাকাবাসী সরকার থেকে তার জন্য চিকিৎসার দাবি জানাই।’
যোগমায়া মালোর ছেলে অশোক মালো বলেন, ‘আমার মা একজন বীরাঙ্গনা। আমরা অনেক কষ্টে দিন পার করেছি। ঘর না থাকায় অন্যের আশ্রয়ে দিন কেটেছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি ঘরের জন্য বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি। সংবাদ প্রচারের পর আজ সরকারিভাবে একটি থাকার ঘর পেয়েছি। আমরা অনেক খুশি। তবে আমার মা এখন ক্যান্সারে আক্রান্ত। তার চিকিৎসা করানোর মতো টাকা আমাদের নেই। সরকার যদি তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিত তাহলে উনি আরও কিছুদিন বেঁচে থাকতে পারতেন।’
যোগমায়া মালোর পুত্রবধূ ডলি মালো বলেন, ‘আমরা ঘর পেয়ে অনেক খুশি হয়েছি। তবে আমার শাশুড়ি অনেক অসুস্থ। তার জন্য সরকার যদি আর্থিক সহযোগিতা করতো তাহলে তাকে চিকিৎসা করাতে পারতাম।’
যোগমায়া মালোর জন্য ঘরের ব্যবস্থা করে দিতে পেরে খুশি জেলা প্রশাসক। আর তার চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের এই কর্মকর্তা। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, ‘গণমাধ্যমে নিউজ প্রচারের পর আমরা বিষয়টি অবগত হয়েছিলাম। অবশেষে তার জন্য বিজয় দিবস উপলক্ষে একটি নতুন ঘর করে দিতে পেরেছি, এজন্য আমরা খুশি। আমরা সব সময় মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের পাশে আছি। বর্তমানে বীরাঙ্গনা যোগমায়া মালো ক্যান্সার আক্রান্ত বলে এখানে এসে জানতে পেরেছি। আমরা তার জন্য সরকারিভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’
এবি/