দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে যাত্রাবিরতি করা একটি যাত্রীবাহী লঞ্চে পিকনিকে আসা অপ্রাপ্তবয়স্ক নারীদের প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাদের কাছ থেকে টাকাপয়সা ও মোবাইল ফোন লুট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নারীদের মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একজন নেহাল নামের যুবক লঞ্চের একেবারে সামনে দুই নারীকে বেল্ট দিয়ে প্রকাশ্যে পিটাচ্ছে তাদের বয়স ১৫-১৭ হবে। আর সেই ভিডিও ধারন করছে সেখানে শতাধিক মানুষ। শুক্রবার দিবাগত রাত ৯ টার দিকে মুন্সিগঞ্জ লঞ্জঘাটে ঢাকা গামী এমভি ক্যাপ্টেন নামের লঞ্চে এঘটনা ঘটে।
এদিকে এঘটনায় লঞ্চের কেভিনের ভিতরে অবস্থানরত তরুণ-তরুণীদের অসংলগ্ন অবস্থা ও মাদক সেবনের অভিযোগে স্থানীয়রা লঞ্চে তল্লাশি করে ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, ঢাকা থেকে লালমোহন গিয়ে পুনরায় ঢাকায় ফিরছিলো এমভি ক্যাপ্টেন নামের লঞ্চটি। লঞ্চটিতে কয়েকশতাধিক যাত্রী ছিলো। যার মধ্যে একদল তরুন-তরুনী পার্টি করছিলো। রাত ৮ টার দিকে লঞ্চটি মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে যাত্রাবিরতির জন্য নোঙর করে। এসময় যাত্রীরা স্থানীয়দের কাছে তরুন-তরুনীদের মাদক ও অশ্লীলতার অভিযোগ করলে লঞ্চে উঠে ৩ তলার কয়েকটি কক্ষে তরুন-তরুনীদের আটক করে স্থানীয়রা। এসময় দুইপক্ষের মধ্যে সংর্ঘের ঘটনা ঘটলে উত্তেজিত হয়ে উঠে স্থানীয়রা। উত্তেজিত জনতা ভাংচুর করে লঞ্চের কিছু জানালা। এসময় মারধর করা হয় দুই তরুনী সহ বেশকয়েকজনকে। তাদের নাম পরিচয় যানা যায়নি তবে তারা ঢাকার কামরাঙ্গীচর থেকে এসেছেন। পরে পুলিশগিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলে ছেড়ে যায় লঞ্চটি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইয়াবা আর গাজা সেবন চলছিল লঞ্চটিতে এজন্যই স্থানীয়রা সেখানে যায়। পরে দেখে রুমের মধ্যে ছেলে-মেয়েরা একসাথে সেবন করছে। এনিয়েই হুলুস্থুল শুরু হয়।
এদিকে দুই তরুণীকে মারধর করা জনতার মধ্যে একজন নেহাল আহমেদ জিহাদ জানান, শত শত মানুষ ছিল। আমি যদি কয়েকটি বারি দিয়ে সবাইকে শান্ত না করতাম হয়তো মেয়েগুলোর সঙ্গে আরো খারাপ আচরণ হতো। তাদের কয়েকটি মোবাইলও নিয়ে গিয়েছিল, সেগুলো আমি উদ্ধার করেছি। তাদের দুজনকে মারা আমার ঠিক হয়নি, তবে পরিস্থিতি শান্ত করতেই ভাই হিসাবে কাজ করছি। এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলম জানান, হট্টগোলের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই অভিযোগ করেনি। তবে, কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জিডি করে তদন্ত করা হচ্ছে।
মুক্তারপুর নৌ পুলিশের ইনচার্জ মো. আতাউর রহমান জানান,ঘটনাস্থলে থানা পুলিশের সাথে আমরাও ছিলাম। মারধরের ঘটনার পর আমরা লঞ্চটিকে অনেক দূর পর্যন্ত পাহারা দিয়ে এগিয়ে দিয়ে আসি।ভুক্তভোগীরা পরবর্তীতে মারধর ও লুটের ঘটনার অভিযোগ করবেন বলে আমাদের জানান। আজ এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে জানন তিনি।
কে