দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পহেলা বৈশাখের আনন্দ শোভাযাত্রার মোটিফ নির্মাতা চিত্রশিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষের মানিকগঞ্জ সদরের গ্রামের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে সদর থানা পুলিশ।
বুধবার রাতে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম আমানউল্লাহ।
আটককৃতরা সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী। এরা হলেন—সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) অর্থ সম্পাদক আল আমিন ওরফে তমাল (২২), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনউদ্দিন আহাম্মদ পিয়াস (২২), মীর মারুফ, আমিনুর রহমান (২৪), গড়পাড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা বাবুল হোসেন (৫৪) এবং ছাত্রলীগ কর্মী খান মোহাম্মদ রাফি ওরফে সিজন (১৮)।
পুলিশ জানায়, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর রাতেই আটক সিজন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখে ‘মিশন কমপ্লিট’। তার এই পোস্ট তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আটককৃতদের ব্যাপারে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে চিত্রশিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষের পরিবারের সঙ্গে কথা বলবেন জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি দল।
অন্যদিকে, মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হাসান খানকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ঢাকাফেরত সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের গ্রামের বাড়িও এই এলাকায়। এছাড়া আওয়ামী লীগের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতার বাড়িও একই গ্রামে অবস্থিত। ফলে ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
চিত্রশিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষ এবারের পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রার মোটিফ নির্মাণে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তার ওপর হামলার ঘটনাকে মতপ্রকাশ ও শিল্পচর্চার ওপর এক ভয়ানক আঘাত হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সংস্কৃতি ও মানবাধিকার কর্মীরা।
আরএ