দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গোপালগঞ্জে পিঠা গার্ডেন হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট থেকে মো. ফেরদাউস শেখ (৪৪) নামে এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে শহরতলীর চর পাথালিয়া এলাকার পিঠা গার্ডেন রেস্টুরেন্ট নামে এক হোটেলের একটি রুম থেকে ওই ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ।
নিহত ফেরদাউস শেখ টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের পার ঝনঝনিয়া গ্রামের ইমদাদুল হকের ছেলে ও পেশায় একজন গরুর খামারি। তিনি ডুমুরিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি পদ প্রত্যাশী ছিলেন।
গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ঝনঝনিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী মঙ্গলবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধ্যায় বোরকা পরিহিত একজন নারীকে নিয়ে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে তিনি পিঠা গার্ডেন নামের ওই রেস্টুরেন্টে উঠেন। বুধবার দুপুরে রুম ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল। দুপুরে রুম থেকে বের না হওয়ায় হোটেল বয় দরজায় অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পায়নি। তাদের সন্দেহ হলে ডুবলিকেট চাবি দিয়ে দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে ফেরদাউসকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। এসময় সাথে থাকা ওই নারীকে রুমে পাওয়া যায়নি। ফেরদাউসকে ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে পুলিশে খবর দেয় রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ। সন্ধ্যায় খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফেরদাউসের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের তদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলের ম্যানেজার তুহিন মোল্যাকে আটক করা হয়েছে।
অফিসার ইনচার্জ আরও বলেন, রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে জানা যায় স্ত্রী পরিচয়ে সেখানে থাকা ওই মহিলা সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা।
নিহতের ভাই মিজানুর রহমান বলেন, আমার বড় ভাই ফরদাউস ডুমুরিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি পদ প্রত্যাশী ছিলেন। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বড় ভাই ফেরদাউস শেখ ভয়েস ম্যাসেজের মাধ্যমে জানায়, সে টুঙ্গিপাড়ায় তার এক বন্ধু গাজী মাসুদের বাড়িতে অবস্থান করছে। বাড়িতে একটি অনুষ্ঠান থাকায় রাতে আর তার সাথে কেউ যোগাযোগ করেনি। পরের দিন বুধবার সকাল থেকে সারাদিন তার মোবাইলে অসংখ্যবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে মঙ্গলবার রাতে পুলিশের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। আসার পরে বিষয়টি জানতে পারি। তবে আমাদের দাবি ভাইকে হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
আরএ