দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রকাশ্যে ভোটের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে শরীয়তপুরের জাজিরায় মোটরসাইকেল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইদ্রিস ফরাজীর কর্মী সমর্থকের হামলায় ৬ সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ মে) বেলা ১২টার দিকে জাজিরা সেনেরচর ফরাজী দারুস সুন্নাহ নূরানী হাফেজিয়া কাওমীয়া মাদরাসা ও এতিমখানা কেন্দ্রে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার (২১ মে) অনুষ্ঠিত হয় শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। এতে এস এম আমিনুল ইসলাম রতন (ঘোড়া প্রতিক) ও মোহাম্মদ ইদ্রিস ফরাজী (মোটর সাইকেল প্রতিক) সহ পাচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহন শুরু হয়েছে।
জাজিরা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি পলাশ খান, সহসভাপতি বরকত মোল্লা, কালবেলার ভেদরগঞ্জ প্রতিনিধি আশিকুর রহমান হৃদয়, সাংবাদিক সানজিদ মাহমুদ সুজন, রুহুল আমিনসহ জেলার সাংবাদিকরা জাজিরা ফরাজী দারুস সুন্নাহ নূরানী হাফেজিয়া কাওমীয়া মাদরাসা ও এতিমখানা কেন্দ্রে সংবাদ সংগ্রহে যান।
তখন মোহাম্মদ ইদ্রিস ফরাজীর (মোটরসাইকেল প্রতিক) কর্মী-সমর্থকরা ভোট কেন্দ্রের কক্ষের কাপড় সরিয়ে প্রকাশ্যে ভোট দিচ্ছিলেন। এসময় সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ করতে গেলে ইদ্রিস ফরাজীর সমর্থক বিপ্লবসহ ২৫/৩০ জন কর্মী সমর্থকরা সাংবাদিক পলাশ, বরকত, হৃদয়, সুজন, রুহুল, নুরুল আমিনদের ওপর হামলা চালায়। এসময় ৬ সাংবাদিকসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন।
হামলায় আহত সাংবাদিক আশিকুর রহমান হৃদয় বলেন, আমরা ভোট কেন্দ্রের বাহিরে অবস্থান করছিলাম। হঠাৎ জানতে পারি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ভোটারদের প্রকাশ্যে ভোট দিতে বাধ্য করছেন মোটরসাইকেল প্রতীকের সমর্থকরা। পরে আমরা কয়েকজন সাংবাদিক ভিডিও ধারণ করতে গেলে সবুজ শার্ট গায়ে বিপ্লব খা ও মোটরসাইকেলের ব্যাচ পরা এক যুবক আমাদের বাঁধা দেয় এবং মোবাইল কেড়ে নেয়।
পরে আমার সাথে থাকা অন্য সহকর্মীরা আমাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসলে মোটরসাইকেল প্রতীকের ভাই ইমন ফরাজীর নেতৃত্বে অনেক লোক এসে আমাদের উপর হামলা চালায়। আমরা পুলিশের থেকে সাহায্য চাইলে তারাও আমাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি।
আহত আরেক সাংবাদিক বরকত মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের উপর যখন হামলা চালানো হয়, আমরা প্রশাসনের কাছে হাতজোড় করে বাঁচাতে অনুরোধ করেছিলাম তারা তখন সরে যায়। কেউ আমাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। সাংবাদিক পরিচয়পত্র দেখলেই হামলাকারীরা মারধর শুরু করেছে।
জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, এখানে বেশ কয়েকজনকে আহত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছিলো। এদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা গুরুতর। এছাড়া একজনের নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ঢাকায় পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি খোঁজ খবর নিচ্ছি। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে নির্বাচনের সহকারী রিটার্নি কর্মকর্তা ও জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া ইসলাম লুনা বলেন, আমরা খবর পেয়ে জেলা প্রশাসকসহ কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছি। যারা আহত হয়েছেন তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এম