দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুরে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত ও নির্বাচনি কাজে বাঁধা দেওয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলমগীর মুন্সীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (১৫ মে) পালং মডেল থানায় বিকাশ চন্দ্র দে বাদী হয়ে মামলাটি করেন। বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দুপুরে পালং মডেল থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন আহম্মেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আলমগীর মুন্সী শরীয়তপুর জজকোর্টের সরকারি কৌঁসুলি (জিপি)।
পালং মডেল থানা ও নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, আগামী ২১ মে অনুষ্ঠিতব্য শরীয়তপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান আকন্দ উজ্জলের ঘোড়া প্রতীকের পক্ষে শরীয়তপুর জজকোর্টের সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলমগীর মুন্সী কাজ করছেন। গত মঙ্গলবার নির্বাচনের প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের তালিকা ও ভোট কেন্দ্রের তথ্য সংক্রান্ত গোপনীয় কিছু নথি নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র দে। তিনি ওই নথিপত্র নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুদ্দিন গিয়াসের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তখন সেই কক্ষে প্রবেশ করেন জিপি আলমগীর মুন্সী। ওই নথিগুলো তখন সরিয়ে রাখেন নির্বাচন কর্মকর্তা। এতে ক্ষুব্ধ হন জিপি আলমগীর মুন্সী। বুধবার বিকেলে নির্বাচন কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাওয়ার পথে আলমগীর মুন্সী তার গতিরোধ করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন বলে অভিযোগ উঠে। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুদ্দিন গিয়াস, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাইনউদ্দিন ও এনডিসি সোহেল রানা সেখানে আসেন। বিকাশ চন্দ্র বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তখন আলমগীর মুন্সী পুনরায় তাকে গালাগালি করে তেড়ে মারতে যান। জেলা প্রশাসনের ওই কর্মকর্তারা তখন দুই জনকে সরিয়ে দেন। এ ঘটনায় বিকাশ চন্দ্র রাতে পালং মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগটি রাত সাড়ে ১২টার দিকে মামলা হিসেবে নথিভূক্ত করা হয়।
এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, সরকারি কাজে বাঁধার কারণে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র দে জজকোর্টের জিপি আলমগীর মুন্সীর নামে একটি পালং মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন।
তবে এঘটনাকে মিথ্যা বলে দাবি করে শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জজকোর্টের জিপি আলমগীর মুন্সী বলেন, আমার সঙ্গে কোনো সরকারি কর্মকর্তার খারাপ সম্পর্ক নেই। তাছাড়া আমি নির্বাচন কর্মকর্তাকে অপদস্ত করিনি। এ ঘটনা মিথ্যা।
শরীয়তপুর সদর ও জাজিরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও শরীয়তপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুদ্দিন গিয়াস বলেন, নির্বাচন কমিশনে জানানো হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা হয়েছে।