দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বগুড়া-৭ আসনের (গাবতলী-শাজাহানপুর) সাবেক সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু ও তার স্ত্রী বিউটি খাতুনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুটি মামলা করেছে দুদক। এরমধ্যে সাবেক এমপির স্ত্রী বিউটি খাতুনের বিরুদ্ধে এক কোটি ৫ লাখ ১০ হাজার ২৯৩ টাকা অবৈধ সম্পদের হদিস পেয়েছে দুদক। আর রেজাউল করিম বাবলুর নামে পাওয়া যায় ৭৫ লাখ ২৯ হাজার ৪৭৮ টাকা।
সোমবার (১৫ মার্চ) দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের বগুড়া কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন। আগের দিন রোববার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে মামলা দায়েরের বিষয়টি অনুমোদন করা হয়।
রেজাউল করিম বাবলু (৬১) শাজাহানপুরের মাঝিড়া ইউনিয়নের ডোমনপুকুর আকন্দ পাড়ার বাসিন্দা। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
দুদকের বগুড়া কার্যালয় সূত্র জানায়, তৎকালীন সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলুর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পেয়ে ২০২১ সালের ৭ মার্চ এক চিঠি দেয় দুদক। ওই চিঠিতে ১৪ মার্চের মধ্যে সম্পদের বিবরণীসহ এমপি বাবলু ও তার পরিবারের সদস্যদের দুদকের বগুড়া কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছিল। এরপর একাধিকবার সময় বাড়িয়ে নেওয়ার পর সম্পদের ব্যয় বিবরণী জমা দেন বাবলু।
এমপি ও তার পরিবারের সম্পদের বিবরণী জমা দেওয়ার পর অনুসন্ধানে নেমে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদের হদিস পান দুদক কর্মকর্তারা। সেই তথ্যের ভিত্তিতে মামলা দায়ের হয়।
প্রথম মামলার এজাহারে রেজাউল করিম বাবলুর বিরুদ্ধে ৭৫ লাখ ২৯ হাজার ৪৭৮ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের পক্ষ থেকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়েছিল। যার বিপরীতে ২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন তিনি। দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে সাবেক এমপি বাবলু স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে ১ কোটি ৩২ লাখ ৭৪ হাজার ৪৬০ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য দেন। কিন্তু সম্পদ বিবরণী যাচাইকালে আয় ও ব্যয় মিলিয়ে ৭৫ লাখ ২৯ হাজার ৪৭৮ টাকার বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি, যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে দুদক মনে করছে।
অন্যদিকে দ্বিতীয় মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি মোছা. বিউটি খাতুন এক গৃহিণী হওয়া সত্ত্বেও ১ কোটি ৫ লাখ ১০ হাজার ২৯৩ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে। তার সম্পদ বিবরণী যাচাইকালে মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৬ হাজার ২৯৩ টাকার। অর্জিত সম্পদের বিপরীতে তার দায়-দেনার পরিমাণ পাওয়া যায় ১৫ লাখ টাকা। যা বাদ দিলে নিট সম্পদের পরিমাণ পাওয়া যায় ১ কোটি ২৭ লাখ ৬ হাজার ২৯৩ টাকা। এ সম্পদ অর্জনের বিপরীতে তার নিট আয় পাওয়া যায় ২১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। ১ কোটি ৫ লাখ ১০ হাজার ২৯৩ টাকার সম্পদ অবৈধ বলে দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।
এদিকে বাবলুর এমপি হওয়া শুরু থেকেই ছিল আলোচনা ও সমালোচনার তুঙ্গে। বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনটি ‘জিয়া পরিবারের আসন’ হিসেবে পরিচিত। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান গাবতলী ও পাশের উপজেলা শাজাহানপুর নিয়ে এ আসন গঠিত। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সব জাতীয় নির্বাচনেই এ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি খালেদা জিয়া। এখানে বিএনপির মনোনয়ন পান দলের গাবতলী উপজেলা শাখার নেতা মোরশেদ মিলটন। তখন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। আসনটি বিএনপি শূন্য হয়ে যায়।
এখানে আওয়ামী লীগেরও প্রার্থী ছিল না। মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। তবে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বড় অংশ ছিল স্বতন্ত্র প্রার্থী ফেরদৌস আরা খানের পক্ষে। তিনি গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজম খানের স্ত্রী এবং শহর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক রফি নেওয়াজ খানের শাশুড়ি। এই অবস্থায় ভোটের এক দিন আগে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিমকে সমর্থন দেয় স্থানীয় বিএনপি। ফলে এক রাতের ব্যবধানে সংসদ সদস্য হন বাবলু।
এফএইচ