দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে সাইফুল ইসলাম (৪২) নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মূল আসামি অন্তর আহমেদ শান্তকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৫ মার্চ) ভোরে তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। তিনি জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের ছালিক মিয়ার ছেলে। এ সময় সাইফুলের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়।
হত্যার শিকার যুবক ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার কাশীপুর-বিশ্বাসপাড়া গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে। শুক্রবার (১৫ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দেলোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের সামনের ডিঙাপোতা হাওর থেকে মুখমণ্ডল পোড়া অবস্থায় অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবকের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানায়, হাওরের জমিতে কাজের করতে গিয়ে স্থানীয় লোকজন এক যুবকের গলা কাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তা উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, সাইফুল ইসলাম ঢাকার মিরপুরে ভাড়ায় মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং করতেন। গত বুধবার (১৩ মার্চ) সাইফুল ঢাকা থেকে তার নিজের মোটরসাইকেল ভাড়ার চুক্তিতে মাসুক ও ফয়সাল নামে দুজন ব্যক্তিকে নেত্রকোনা নিয়ে আসেন।
পরে রাতে অন্তরসহ আরও কয়েজন মিলে উপজেলার তেতুলিয়ার সামনের ডিঙাপোতা হাওরে নিয়ে সাইফুলকে গলা কেটে হত্যার পর পরনের কাপড়ে আগুন দিয়ে মুখ পুড়িয়ে দেয়।
সকালে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা আঙুলের ছাপের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করে।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই রহস্য উদ্ঘাটনে নামে পুলিশ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি প্রধান আসামি শান্তকে আটক করা হয়।
এ সময় তার বাড়ি থেকে সাইফুলের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে শান্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের নাম প্রকাশ করে।
পুলিশ আরও জানায়, শান্তসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যরা গত ১০ দিন ধরে একটি মোটরসাইকেল ছিনতাই করার জন্য পরিকল্পনা করে। পরে তারা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা থেকে ভাড়ার কথা বলে মোটরসাইকেলসহ সাইফুলকে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের ডিঙাপোতা হাওরে নিয়ে আসে।
গভীর রাতে হাওরে পৌঁছানোর পর আগে থেকেই সেখানে থাকা অন্য সঙ্গীদের নিয়ে সাইফুলকে গলা কেটে হত্যা করে। হত্যার পর পরনের পোশাক খুলে আগুন লাগিয়ে তার মুখ পুড়িয়ে দেয় যেন পরিচয় শনাক্ত না করা যায়।
এদিকে খবর পেয়ে ঝিনাইদহ থেকে নিহত সাইফুলের পরিবারের লোকজন নেত্রকোনায় পৌঁছায় । হত্যার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ডিপি/