দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নোয়াখালী সোনাইমুড়ি উপজেলায় শহিদুজ্জামান পলাশ (৩৫) নামে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক এজেন্টকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তিনি গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিকের এজেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। নিহত পলাশ নাটেশ্বর ইউনিয়নের পূর্ব মির্জানগর গ্রামের জামাল হোসেনের ছেলে।
শনিবার (১৪ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে সোনাইমুড়ী উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মির্জানগর গ্রাম থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পলাশ সৌদি প্রবাসী ছিলেন। সৌদি আরব থেকে দেশে এসে ব্যবসা করছিলেন। এরই মধ্যে ইতালি যাওয়ার জন্য টাকাও জমা দিয়েছে সে। সদ্য শেষ হওয়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিকের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করে পলাশ। নির্বাচনের দিন সোনইমুড়ি উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়নের পূর্ব মির্জানগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এজেন্টের দায়িত্বে ছিলেন পলাশ। গতকাল রাত ১০টার দিকে পূর্ব মির্জানগর গ্রামের নিজ বাড়ির পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পলাশের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন প্রতিবেশীরা। তাঁর কপাল ও মুখে ধারালো অস্ত্রের আঘাত দেখা গেছে। স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি সোনাইমুড়ী থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার থানায় নিয়ে যায়।
নোয়াখালী-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক বলেন, পলাশ নির্বাচনে তার পক্ষে কাজ করেছিল। নির্বাচনের দিন পূর্ব মির্জানগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এজেন্টের দায়িত্বও পালন করেছিল। গতকাল বিকেলেও সে আমাকে জানিয়েছে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। রাতে তার খুনের বিষয়টি জানলাম। আমি এখন আমার জীবন নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করছি। আমি থানা পুলিশকে অবহিত করব।
নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলম বলেন, আমি হত্যা বা সহিংসতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই। গত দশ বছর আমি এ এলাকার সংসদ সদস্য ছিলাম। কোনো অন্যায় বা অপরাজনীতিকে প্রশ্রয় দেয়নি। ঘটনা শুনে আমি পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি।
তবে এ হত্যাকাণ্ড নির্বাচনি সহিংসতা নাকি অন্য কোনো কারণে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। হত্যার কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা চলছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্ত শেষে জানা যাবে কিভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। অনেকগুলো বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করছি। খুব শীঘ্রই আমরা হত্যার কারণ আপনাদের জানাতে পারব।
উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-২ আসনে মোরশেদ আলম নৌকা প্রতীকে ৫৬ হাজার ১৮৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। স্বতন্ত্র (কাঁচি) প্রার্থী আতাউর রহমান ভূঁইয়া পান ৫২ হাজার ৮৬৩ ভোট।
এফএইচ