দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মৃদু শৈত্যপ্রবাহে সূর্যের দেখা নাই কয়েক দিন থেকে। ঘনকুয়াশা আর প্রচণ্ড শীতের কারণে নাকাল উত্তর জনপদের মানুষ। মানুষের মতোই জবুথবু হয়ে পড়ছে রংপুর চিড়িয়াখানার প্রাণীগুলোও।
শীতে কাঁপছে চিড়িয়াখানার হরিণ, ঘোড়া, ময়ূর, বাঘ, বানর, সিংহসহ সব পশুপাখি। শীতে মানুষের মতোই নাকাল হতে দেখা গেছে এসব প্রাণীদের। যেন অনেকটা প্রাণহীন নিস্তেজ হয়ে পড়েছে প্রাণীগুলো। তবে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত ভিটামিন খাওয়ানো হচ্ছে প্রাণীগুলোকে।
শনিবার (১৩ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে রংপুরের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, রংপুরে সর্বনিম্ন ১০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং বিভাগের সৈয়দপুর ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
রংপুর চিড়িয়াখানায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি খাঁচার ভেতরে পশুপাখি গুটিসুটি মেরে বসে আছে। শীত থেকে বাঁচতে অধিকাংশ পাখি পাখার ভেতর মুখ লুকিয়ে রেখেছে। খাঁচার ভেতরে দেখা গেছে শীতে কাতর সিংহ-সিংহীকে ও বাঘ-বাঘিনীকে। শুয়েই সময় কাটাচ্ছে তারা। যদিও ভোরের সময় সিংহ ও বাঘের গর্জন শোনা যায়।
অন্যদিকে লাফালাফি না করে বানরসহ অন্যান্য প্রাণী খাঁচার কোনায় চুপিসারে বসে আছে। একই অবস্থা ঘোড়ার খাঁচায়। খাঁচার একপাশে টিনের তৈরি সেডে খড় বিছানো হয়েছে। সেখানে কিছু ঘোড়া থাকলেও বাকি ঘোড়াগুলোকে মাটিতেই শুয়ে থাকতে দেখা গেছে। চঞ্চল হনুমানও মাথা লুকিয়ে যেন উষ্ণতা খোঁজার চেষ্টা করছে। উটপাখির মতো দেখতে বড় ক্যাসোয়ারি শীতে নিথর হয়ে বসে আছেন। ময়ুর পেখম তোলা বন্ধ রেখে মাথা লুকিয়ে রেখেছে পেখমের ভেতর।
হরিণগুলো দলবদ্ধ হয়ে থাকলেও শীতের শরীরে দুরুন্তপণা নেই তাদের মাঝে। এমন করেই প্রত্যেকটি প্রাণী নিদারুণ শীতের কষ্টে রয়েছে।
শীতে চিড়িয়াখানার প্রাণীদের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা.আম্বর আলী তালুকদার বলেন, শীতে প্রাণীদের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সবসময়ের জন্য চিকিৎসা সেবা, অসুস্থ হলে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।
যেসব প্রাণী একেবারে শীত সহ্য করতে পারে না। তাদের প্রতিটি খাঁচার চারদিকে চট দিয়ে ঘিরে রাখা হয়। যেন বাতাস না ঢুকতে পারে। ঘরগুলো পরিষ্কার রাখা হচ্ছে সবসময়। এছাড়াও বিভিন্ন খাঁচার ভেতর খড় দেওয়া হয়েছে যেন প্রাণীরা সেখানে বসে শরীর গরম করতে পারে। সেইসঙ্গে পশু পাখিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন খাওয়ানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকটি প্রাণিকে প্রয়োজন মতো খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সব প্রাণী সুস্থ আছে। আমরা তদারকি বাড়িয়ে দিয়েছি।
রংপুর চিড়িয়াখানা জ্যু অফিসার ডা. শাহাদত হোসেন বলেন, প্রতিদিনই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাসহ সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যাতে কোনো প্রাণী অসুস্থ না হয়। ঘরগুলো প্রতিদিন পরিষ্কার করা হয় এবং পানি বদলে দেওয়া হয় প্রতিদিন।
এদিকে শীতের কারণে দর্শনার্থীর সংখ্যা একেবারে কম। তবে প্রাণহীন প্রাণীগুলোকে দেখে খুব বেশি উপভোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন কয়েকজন দর্শনার্থী।
২১ দশমিক ৫১ একর জমিতে ১৯৮৯ সালে সাধারণ মানুষকে বিনোদন দিতে রাজধানীর বাইরে প্রতিষ্ঠিত হয় রংপুর চিড়িয়াখানা। ১৯৯২ সালে উন্মুক্ত করা হলে সে সময় ২৩ প্রজাতির প্রাণী ছিল। ২০১৮ সালে ২৬ প্রজাতির ২১৫টি প্রাণী থাকলেও বর্তমানে রংপুর চিড়িয়াখানায় ১৬১টি প্রাণী রয়েছে। দিনে দিনে কমছে প্রাণী।
জেবি