দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় একটি সেতুর জন্য ভোগান্তিতে পরেছেন ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয়রা সুপারি গাছ দিয়ে দীর্ঘদিন সেতুটি ব্যবহার করলেও প্রায় একমাস ধরে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে স্থানীয়দের। তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে বরাদ্ধ না থাকায় নতুন করে সেতুটি নির্মাণ করা যাচ্ছে না।
সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার চিংড়াখালী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম চণ্ডিপুর। এই গ্রামের দাউরা খালের ওপর নির্মিত আয়রন সেতুটি ভেঙে যায় প্রায় ৪ বছর আগে। সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর স্থানীয় গ্রামবাসী সুপারি গাছ দিয়ে মেরামত করে ব্যবহার করছিল। যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সে সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই সেতুটি দিয়ে বাধ্য হয়ে পার হতেন, চণ্ডিপুর, পূর্ব চণ্ডিপুর, বড় জামুয়া, ছোট জামুয়া, কাছিকাটা, চড়গোপালপুরসহ ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। তবে গত একমাস ধরে সেতুটি পুরোপুরি ভেঙে যায়। এরপর থেকে নৌকায় করে খাল পার হচ্ছেন দুই পাড়ের স্থানীয় বাসিন্দাসহ স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। এতে করে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে স্কুল ও মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীসহ নারী ও শিশুরা। এমন অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় গ্রামবাসী।
চণ্ডিপুর গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থী আমেনা খাতুন বলেন, এই সেতু ভেঙে যাওয়ার কারণে আমাদের অনেক ভোগান্তি। নৌকায় করে খাল পার হওয়ার সময় আমাদের ভয় লাগে। কিছুদিন আগে আমাদের এক বন্ধু নৌকা থেকে পড়ে যায়। পরে নৌকার মাঝি তাকে উদ্ধার করে।
একই গ্রামের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সজিব জোমাদ্দার বলেন, অনেক সময় আমরা নৌকা পাই না। তখন বাধ্য হয়ে খাল সাঁতরে আমাদের পার হওয়া লাগে।
পূর্ব চণ্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা আসলাম শেখ বলেন, এই সেতুটির জন্য আমাদের আশপাশের ১০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে। সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর আমরা গ্রামবাসী চাঁদা তুলে সুপারি গাছ দিয়ে কোনোমনে মেরামত করে ব্যবহার করতে থাকি। কিন্তু প্রায় একমাস ধরে সেটাও ভেঙে যাওয়ার পর আমাদের নৌকা ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ নেই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জামাল শেখ বলেন, দাউরা খালের ওপর সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে পরে আছে। আমি বিষয়টি চেয়ারম্যান, ইউএনওসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে জানিয়েছি। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কারও কোনো মাথা ব্যথা নেই। এই সেতুটির জন্য হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাই দ্রুত সেতুটি যেন মেরামত করা হয়।
বাগেরহাট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুজ্জামান বলেন, সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে মাটি পরীক্ষাসহ আনুসাঙ্গিক কাজগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় সেতুটি নির্মাণ করা যাচ্ছে না। বরাদ্দ পেলে আগামী অর্থ বছরে সেতুটি নির্মাণ করা হবে বলে জানান তিনি।
জেবি