দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নওগাঁয় সৎ মা ও বোনকে মারাত্মকভাবে পিটিয়ে আহত করেছে এক পাষণ্ড যুবক। মা-মেয়ে বর্তমানে নওগাঁ সদর হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ব্যাপারে নওগাঁ সদর থানার পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ হাসপাতালে তাদের খোঁজ খবর নিয়েছে এবং মামলা নেওয়ার কথা বলেছে। ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁ সদর উপজেলার কির্ত্তীপুর ইউনিয়নের মাধাইনগর পূর্বপাড়ায়।
হাসপাতালে শুয়ে সৎ ছেলের হাতে মারাত্মক আহত হওয়া মা মজিদা বেগম (৪৭) মারপিটের কারণ এবং লোমহর্ষক এই পেটানোর বর্ণনা তুলে ধরেছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্বের স্ত্রী মারা গেলে মাধাইনগর গ্রামের ময়েন উদ্দিন তাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে ঘরে আনেন। দ্বিতীয় স্ত্রী হয়ে আসার পর তিনি আগের স্ত্রীর রেখে যাওয়া দুই ছেলেকে নিজের ছেলের মতো করে সেবা যত্ন দিয়ে বড় করে তোলেন। পরবর্তীতে মজিদা বেগমের গর্ভে দুই কন্যার জন্ম হয়। কালের প্রবাহে তারা বড় হয়। মজিদা বেগমের দুই মেয়ের বিয়ে হয়। প্রথম স্ত্রীর দুই ছেলেরও বিয়ে হয়।তাদের মধ্যে মোমিনুল হক বাড়িতে আছে আর অন্য ছেলে বিদেশে রয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রী মজিদা বেগমের দুই মেয়ে ইশরাত জাহান ও মৌসুমী আখতার নিজ নিজ স্বামীর সঙ্গে চাকরির সুবাদে ঢাকায় অবস্থান করেন। ইতোমধ্যে তাদের বাবা ময়েন উদ্দিন মৃত্যুবরণ করেন।
বাবার মৃত্যুর পর সম্পত্তি নিজে ভোগ দখল করার মানসে এবং সৎ মা ও দুই বোনকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার লক্ষ্যে মোমিমনুল হক বিদেশে অবস্থানরত অন্য ভাইয়ের যোগসাজশে প্রায়শই মজিদা বেগমকে মারধর করত। বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করত। আর সেই চেষ্টার অংশ হিসেবে সৎ মায়ের প্রতি নির্যাতনের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ ব্যাপারে সৎ মা মজিদা বেগম কোর্টে একটি মামলা করে এবং বাড়িতে থাকতে না পেরে তার কন্যা ইশরাত জাহানের ঢাকার বাসায় চলে যান। সেখানে বসবাস করতে থাকেন।
কোর্টে দাখিলকৃত ওই মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারিত হওয়ার চিঠি পেয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ শনিবার সন্ধ্যায় মা মজিদা বেগম ও তার দুই কন্যা ইশরাত জাহান ও মৌসুমী আকতার মাধাইনগর নিজ বাড়িতে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে মোমিনুল ইসলাম তাদের ওপর হামলা চালায়। বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায় লোহার শাবল, লাঠি, ছোরা ইত্যাদি দিয়ে তাদের ওপর আক্রমণ করে। লোহার শাবল দিয়ে মা মজিদা বেগমের দুই পায়ে মারাত্মকভাবে হামলা চালায়। এতে তার ডান পায়ে মারাত্মক জখম হয়। পায়ের একটি হাড় ভেঙে বাইরে বেরিয়ে আসে। অপরদিকে বোন মৌসুমীকে সারা শরীরে পেটানো হয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় মা ও মেয়েকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন প্রতিবেশীরা। শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত মা মজিদা বেগমের পায়ে ব্যান্ডেজ থাকা সত্ত্বেও রক্ত বন্ধ হচ্ছিল না। পরিস্থিতি ছিল আশঙ্কাজনক।
এ ব্যাপারে নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফায়সাল বিন আহসান জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং সঙ্গে সঙ্গে এক অফিসারকে পাঠিয়ে দিয়েছেন। গভীর রাতে তিনি নিজেও হাসপাতালে আহত মজিদা বেগম ও তার কন্যাকে দেখতে গিয়েছিলেন। এ ব্যাপারে মামলা গ্রহণপূর্বক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন। গভীর মাতৃস্নেহে বড় করে তোলা ছেলে তার মা ও বোনকে এমন করে পিটিয়ে রক্তাক্তভাবে আহত করার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারা এই পাষণ্ডতার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এইউ