দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অঘোষিত বন্ধে স্থবির হয়ে পড়েছে নাকুগাঁও স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি। ব্যবসায়ীরা বলছেন প্রায় দুই মাস যাবত আমদানি-রপ্তানি বন্ধের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে ৪ হাজার শ্রমিক এবং ডলার সংকট ও ভারতীয় পাথর না আসায় ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। সেইসঙ্গে গত দুই মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে সরকার। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছেন সরকারিভাবে পাথর আমদানি বন্ধের ঘোষণা না থাকলেও ভারতের ব্যবসায়ীরা পাথরের কোনো গাড়ি বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে না।
সরেজমিনে নাঁকুগাও স্থলবন্দর ঘুরে জানা যায়, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও স্থলবন্দর দিয়ে গত দুই মাস আগেও ভারত থেকে আসা ট্রাক লোড-আনলোড, পাথর ভাঙা মেশিন এবং হেমার ও হাতুরি দিয়ে পাথর ভাঙার শব্দে মুখরিত ছিল জেলার একমাত্র এই স্থলবন্দরটি। এতে এ পেশার সঙ্গে জড়িত প্রায় চার হাজার নারী ও পুরুষ শ্রমিকের মনে ছিল প্রাণচাঞ্চল্য।
কিন্তু গত ৯ জুলাই থেকে ভারতের ব্যবসায়ীরা পাথর রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। ভারতের পাথর রপ্তানিকারক সমিতি বন্ধের কারণ হিসেবে জানায়, সড়ক মেরামতের কারণে সাময়িকভাবে পাথর রপ্তানি বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি মৌখিকভাবে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের অবগত করা হলে ব্যবসায়ীরা তা মেনে নেয়। কিন্তু দীর্ঘ দুই মাস অতিবাহিত হলেও ভারত থেকে কোনো পাথরবোঝাই ট্রাক না আসায় হতাশ হয়ে পড়েছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা।
এমনকি ডিপোতে জমানো পাথরও শেষ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। কর্মহীন হয়ে পড়েছে সাধারণ শ্রমিকরা। তবে গত দুই মাসে ১০ থেকে ১২ গাড়ি ভুটানের পাথর আসলেও তা খুবই অপ্রতুল। এখন বন্দরের বিভিন্ন ডিপোতে পড়ে আছে শুধু পাথর ভাঙার ডাস্ট।
নাকুগাঁও স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, এলসি করা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের প্রায় শত কোটি টাকার পাথর আটকে আছে ভারতের ওপারে। কারণ নাকুগাঁও স্থলবন্দরে প্রায় দেড় শতাধিক ব্যবাসায়ী আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে জড়িত। এদের মধ্যে প্রায় সবাই কম-বেশি পাথর আমদানি করে থাকে। এসব ব্যবসায়ীর প্রায় সবারই দুই থেকে ১০ ট্রাক করে পাথর আটকে আছে ভারতের ওপারে। ভারতের ব্যবসায়ীরা যে সমস্যা দেখিয়েছে তার কোনো নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়নি। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা সেখানকার পাহাড়ি ঢলে যেসব সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা মেরামত চলছে বলে জানায় তারা।
এদিকে স্থানীয় এক ব্যবাসায়ী নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানায়, ভারতের অংশে শুধু সড়ক মেরামতই সমস্যা নয়। সেখানে মেঘালয়ের স্থানীয় রাজনৈতিক সমস্যাও রয়েছে। সে কারণে তারা পাথর পাঠাতে পারছে না।
নাকুগাঁও স্থলবন্দরের সবুজ এন্টারপ্রাইজের মালিক রুস্তম আলী, আশিক এন্টারপ্রাইজের মালিক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই পাথর আসা শুরু হয়ে যাবে এমন আশ্বাস দিয়ে আসছে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। আমরাও ওই আশ্বাসের ওপর ভর করে দুই মাস পাড় করেছি কিন্তু কিছুই হচ্ছে না। তাই সরকারের কাছে দাবি ভারতের সরকার বিশেষ করে মেঘালয়ের রাজ্য সরকারের উচ্চপর্যায়ে কথা বলে পাথর ও অন্যান্য পণ্য আমদানি করার ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক। তাতে বন্দরের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে এবং ব্যবসায়ীরাও স্বস্থির নিশ্বাস ফেলবে।
এদিকে স্থলবন্দরের সাধারণ শ্রমিকরা দাবি জানায়, এ বন্দর দিয়ে ২৭টি পণ্য আমদানির অনুমোদন থাকলেও আমদানি হচ্ছে শুধুমাত্র ভারত ও ভুটানের পাথর এবং কয়লা। এর মধ্যে কয়লা বন্ধ রয়েছে বেশ কয়েক মাস থেকে। এ বন্দর দিয়ে আরও কিছু পণ্য আমদানি থাকলে দুই একটি পণ্য আমদানি বন্ধ থাকলেও শ্রমিকরা একেবারে কাজ হারাবে না।
নাকুগাঁও শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আলম ও সাধারণ সম্পাদক সুজন মিয়া বলেন, বছরখানেক আগে থেকেই কয়লা আমদানি বন্ধ হলে শুধুমাত্র ভুটান ও ভারতের পাথরের ওপর নির্ভর করে টিকে আছে নাঁকুগাও বন্দরের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছে বন্দরের প্রায় চার হাজার শ্রমিক। সেইসঙ্গে তাদের পরিবারসহ আরও প্রায় দশ থেকে পনেরো হাজার মানুষ অর্থকষ্টে রয়েছে। তাই তারা আরো ভিন্ন ভিন্ন পণ্য আমদানির ওপর জোর দিয়ে বলেন, সরকার ও ব্যবাসীয়া মিলে যদি পাথর আমদানি ছাড়াও অন্যান্য পণ্য আমদানি করে তাহলে শ্রমিকরা একেবারে বেকার হতো না। তাই অসহায় শ্রমিকদের কর্ম সংস্থানের জন্য ব্যবসায়ী এবং সরকারের উচিত এর সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।
নাকুগাঁও আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতি যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান জুয়েল বলেন, পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় ভারতে আমাদের কোটি কোটি টাকা আটকা পড়ে আছে। এতে লসের মুখ দেখতে হচ্ছে আমাদের। তবে এ সপ্তাদের মধ্যে পাথর আসা শুরু হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।
নাকুগাঁও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক বলেন, গত জুন মাসে এ বন্দরে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ৮৫ লাখ ৮৮ হাজার। জুলাই ও আগস্ট মাস পর্যন্ত দুই মাসে ভুটানের কিছু পাথর আসায় রাজস্ব আদায় হয়েছে মাত্র ৩৩ লাখ টাকা। ভারতের পাথর আমদানি চালু থাকলে দুই মাসে রাজস্ব আদায় হতো প্রায় দেড় কোটি টাকা।
জেবি